শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার,অটোরিকশা উদ্ধার

আপডেট:

আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা (মিশুক) ছিনতাই এর ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার, ছিনতাইকৃত অটো রিক্সা, ভিকটিমের মোবাইল ফোন, আসামিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চেতনানাশক ঔষক উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ পিপিএম বার।
অটোচালক মোঃ মামুন মিয়া (২২), তার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা অনুমান ৭ টায় কিশোরগঞ্জ সদরের চৌদ্দশত বাজার হতে গ্রেফতারকৃত আসামী মো: শিপন মিয়া ও মো: জাহাঙ্গীর আলম অজ্ঞাত অপর একজনসহ মোট ৩জনকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হয়। এ সময় তাদের মোটর সাইকেল যোগে অপর অজ্ঞাত একজন পর্যবেক্ষণ করতে থাকে । পথিমধ্যে অভিযুক্তগণ অটোচালক মোঃ মামুন মিয়াকে চেতনানাশক ঔষধ কৌশলে খাইয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নস্থ মায়াকানন পার্কের বিপরীত পার্শ্বে জনতা বাজারগামী পাকা রাস্তার পাশে মাসুমের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫০০/- টাকা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায় । বিষয়টি ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সিসি টিভিতে রেকর্ড হয়। সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার প্রাপ্তির পর তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে,অফিসার-ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, কিশোরগঞ্জ আবুল বাশার এর নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে । তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার বরুনাকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে মো: শিপন মিয়া (২৫)কে তার এলাকা হতে রবিবার ১৭ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে এবং আসামির হেফাজত হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভিকটিম এর পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিত্রে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-২৪, তারিখ ১৭-১২-২০২৩ খ্রি: ধারা- ৩৯৪ পেনাল কোড রুজু করা হয় । মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কিশোরগঞ্জ এর সাব-ইন্সপেক্টর মাহমুদুল হাসান মারুফ তদন্ত করছেন। তদন্তকারীক কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি মো: জাহাঙ্গীর আলম (২৫), পিতা-মো: রতন মিয়া, সাং-বোরগাও, থানা-তাড়াইল, জেলা-কিশোরগঞ্জ,মো: সিরাজুল ইসলাম (৪২), পিতা-আব্দুল মুসলিম উদ্দিন, সাং-মাইজহাটি, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ, মো: অংকুর মিয়া @ রিপন (২৮), পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম, সাং-কিসমত রসুলপুর, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ,মো: শাহীন খান (৩২), পিতা-মৃত ফিরোজ খান, সাং-মোরাগালা, থানা-নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহকে মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর তাদের নিজ নিজ এলাকা হতে গ্রেফতার করেন। ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি আসামী মো: সিরাজুল ইসলাম এর হেফাজত হতে উদ্ধার করেন এবং অন্য একটি অটোরিক্সা আসামী মো: অংকুর মিয়ার নিকট হতে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন। আসামীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমকে প্রয়োগকৃত চেতনানাশক ঔষধের দুইটি ড্রপ আসামি মো: জাহাঙ্গীর আলম এর নিকট হতে উদ্ধার করা হয়। অটো রিক্সার ছিনতাই চক্রের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় আসামী মো: শাহীন খানকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের পরিচয় সনাক্ত সাপেক্ষে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ধৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদন্নোতি প্রাপ্ত) মোস্তাক সরকার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদন্নোতি প্রাপ্ত) নূরে আলম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আল আমিন হোসাইন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মনতোষ বিশ্বাস সহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত