শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

উদয়ন’র বনভোজনে তরুণ প্রবীণের মিলনমেলা বান্দরবানে

আপডেট:

কামরুল ইসলাম:

কনকনে মাঘের শীত। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১১.৫৯ মিনিটে রওনা দেয়ার কথা।  নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ছাড়বে কেউ চাদর, কেউ মাফলার দিয়ে শীত থেকে বাঁচার জন্য মুখ ঢেকে একে একে উপস্থিত হচ্ছেন উদয়ন ক্লাব প্রাঙ্গণে। তবে এর আগে থেকেই ক্লাব প্রাঙ্গণে চলছিল রান্নাবান্নার কাজ। সদস্যদের পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থীও ছিল পিকনিকে। তাছাড়া ষাটোর্ধ্ব আবুল কাশেম, দীলিপ কুমার বণিক, আজিজুল হক ভান্ডারী, মীর কাসেম, মুসা, নাছির সওদাগর, শাহ আলম সহ কয়েকজন প্রবীণের উপস্থিতি আরো বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে উদয়ন এর এই বার্ষিক বনভোজন।

বিজ্ঞাপন

যাইহোক, কুয়াশা মোড়ানো শীতে ১ ঘন্টা পিছিয়ে বাস ছাড়া হলো রাত ১ টায়। প্রবীণ তরুণ সবাই মিলে মিরসরাই এক্সপ্রেস এর দুটি বাসে করে রওনা হলাম বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে। রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় ১ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছাই যাই নতুন ব্রীজ এলাকায়। সেখানে কিছু সময় যাত্রা বিরতি। যে যার মতো করে কেউ চা খাচ্ছে, কেউ খাচ্ছে ফল। এরপর আবার যাত্রা শুরু হয়েছিল। ভোররাতে পৌঁছে যায় আমাদের গন্তব্যস্থলে। সেখানে অপেক্ষা করছে বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ করেরহাট ইউনিয়নের কৃতি সন্তান স্বপন আইচ। তিনি আমাদের জন্য দুটি রুম বুক করে রাখেন আগে থেকেই। যাতে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নেয়া যায়। কেউ কেউ বাসে ঘুমিয়েছে কিছুক্ষণ। সকাল ৭ টায় শুরু হয় খাসির খিচুড়ি। সবাই খুব আনন্দ করে পেট ভরে খেয়েছিলাম। এরপর বান্দরবানের চান্দের গাড়ি করে প্রথমে যাই নীলাচল পর্যটন কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে উপভোগ করলাম পাহাড়ের সৌন্দর্য। কেউ কেউ ছবি তুলছেন আবার কেউ শপিং নিয়ে ব্যস্ত। যখন সবাই গ্রুপ ছবি তোলার জন্য একসাথে হলাম তখন মনে হলো আমরা একটি পরিবার। সকলে সমস্বরে চিৎকার করে বলল উদয়ন। এই যেন নতুন সূর্যের উদয়।

 

বিজ্ঞাপন

এরপর ১২ টা করে ২য় স্পট মেঘলার উদ্দেশ্যে আবার চান্দের গাড়ি করে যাত্রা। সেখানে গিয়ে ঘুরাঘুরি, ঝুলন্ত ব্রিজে দোল খাওয়া, কেউ ক্যাবল কারে করে ঝুলে ঝুলে লেক ভ্রমণ আবার কেউ কেউ করেছে কায়াকিং। দুপুর ২ টা নাগাদ হয় মধ্যাহ্নভোজ। মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে শুরু হয় র্যাফেল ড্র । উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ ইনচার্জ স্বপন আইচ। ড্রয়ের মাধ্যমে ৭২ জনকে অর্থাৎ যত জন অংশগ্রহণ করে এ বনভোজনের সবাইকে পুরস্কার দেয়া হয়। সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ছিল যখন সেই প্রবীণ মানুষগুলো পুরষ্কার নিতে দৌড়ায় দৌড়ায় আসেন।

পুরস্কার বিতরণ শেষ করে সবাই আবার কর্ণফুলী টানেল দেখার জন্য যাত্রা শুরু করলাম। অনেকে আবার শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। সাড়ে তিনটায় বাস দুটি পুনরায় রওনা করলেন আনোয়ারা হয়ে টানেল দেখার জন্য। টানেল দ

হয়ে সবাই পতেঙ্গা সী বিচে কিছুটা সময় কাটালাম। সেখানে কাকড়া ভাজা ছিল অসাধারণ। পরবর্তীতে ডিসি পার্ক যাওয়ার কথা থাকলেও রাস্তায় জ্যাম এবং সময় সংকুলনের কারণে ডিসি পার্ক না নেমে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ঠিক আটটা নাগাদ উদয়ন ক্লাব প্রাঙ্গণে বাস দুটি থামে। এরপর যে যার মতো করে বাড়ি ফেরে গেল।

 

উদয়ন ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম শাহীন, উদয়ন ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মাহবুব আলম ছিলেন সর্বাত্মক সহযোগিতায়। পিকনিক কমিটির আহবায়ক আব্দুর রহিম বয়সে যেটাই হোক তবে উনার আন্তরিকতায় বনভোজনটি হয়ে উঠেছে আরো জমজমাট। পিকনিক কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ারুল আজিম মিল্টনের মমতাময়ী মা কয়েকদিন আগে মারা যাওয়ার কারণে যেতে পারেননি পিকনিকে। উনার অনুপস্থিতি আমাদের ব্যথিত করেছে। ক্লাবের সহ-সভাপতি সাইফুল ভাই ছিল অন্যন্য যিনি মাতিয়ে রেখেছেন পুরোটা সময়। এই বনভোজনের প্রতিটি সময় কেটেছে আনন্দের সাথে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত