বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় স্ত্রীর সাবেক প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে আবু বক্কর প্রকাশ আসিফ (২৬) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গতকাল সকালে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় অবরোধ করে স্বজন ও এলাকাবাসীরা। এ সময় মহাসড়কের দুই দিকে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়। আসিফ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কেন্ডা গ্রামের মরহুম ফটিক মিয়ার ছেলে। এর আগে গত ৮ই নভেম্বর আসিফ সদর দক্ষিণ উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে দুই ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করে। গত শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান। নিহতের পরিবারের দাবি, স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটির (১৯) সাবেক প্রেমিক রাব্বি প্রকাশ বাপ্পি নামে এক যুবক তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে গত শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাতে আসিফের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে গ্রামবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। নিহতের ভাই আবু আরাফাত হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্ত্রীও জড়িত রয়েছে। আরাফাত আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে ভাবী সুমাইয়া আক্তার সুইটি সদর দক্ষিণ থানায় ছুরিকাঘাতের একটি মামলা দায়ের করে। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় আমরা আদালতে ভাবীকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করবো। এলাকাবাসী দাবি করছে, স্ত্রীর প্ররোচনায় তার সাবেক প্রেমিক ও তার সহযোগী স্বামী আসিফকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করেছে। ঘটনাটির ভিন্নখাতে প্রবাহিত এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্য সুইটি বাদী হয়ে ২৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ সম্পর্কে সুইটির বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার মেয়ে কোনোভাবেই জড়িত নয়। বিয়ের আগে আমার মেয়ের সঙ্গে কারও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। আমার মেয়ে মোবাইলও ব্যবহার করতো না। আমি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বজনরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে চৌদ্দগ্রামের সৈয়দপুর এলাকায় অবরোধ করে। বিষয়টি পুলিশের মহাপরিদর্শক ও কুমিল্লা পুলিশ সুপার বলেন, আমরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেয়। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ঘটনার পর পরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

