বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

মেয়ে মানুষের ভালবাসা

আপডেট:

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

তাং ঃ ১৪.১১.২০২৩

বিজ্ঞাপন

 

“এই জন্মের দূরত্ব টা পর জন্মে চুকিয়ে দেবো!”

বিজ্ঞাপন

 

আমার “দোস্ত” হাবিবা, একজন জজ, এখন অবসরে, হাইকোর্ট প্রাকটিসনার! পরিচয় হয়েছিলো “জীবনবেদ”

প্রশিক্ষন ক্লাসে একজন সুফি ডক্টরেট ক্লাস নিচ্ছিলেন!

আমারা দু’জন ই প্রশিক্ষণ ক্লাসে পাশাপাশি বসতাম। দু’জন ই সাহিত্য জগতে জড়িত!

অল্পদিন হলো হাবিবা স্বামীকে হারিয়েছে! দারুন ভালোবাসা ছিলো দুজনের! দুলাভাই ও ব্যারিস্টার ছিলেন, অনেক স্নেহ করতেন আমাকে!

 

হাবিবা জীবন যোগের উপর লেখেন, ওর ধানমন্ডির গোটা দুই বাড়ী সামলানো সহ রেস্ট হাউজ আছে, যোগব্যায়াম ক্লাস নেয়! আমাকে আজ একটা সংগৃহিত লেখা পাঠিয়েছেন, অনেক লম্বা, আপনাদের পড়ার ধৈর্য হবে না বলে লেখাটা পোস্ট দিলাম না!

 

ক্যাথরিনা, আমারিকার মানুষ, বাংলাদেশে আসছিলেন

পিএইচডি করতে, Under development country

থিসিস ছিলো! প্রেমে পড়েন নুন আনতে পানতা ফুরায় সাহিত্য জগতের মানুষ “তারেক মাসুদের” সাথে! তারেক মাসুদ তখন স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবি বানায়! দু’জনে রিকসায় আদালতে যেয়ে বিয়ে এবং দুই রুমের টিন শেডে বাসর!

ক্যাথরিনা অনেক বড় পরিবারের ধনীর দুলালী!

তারপর মাসুদের সাথে রোদবৃষ্টি ঝড়ে গরম ঠান্ডা লাগিয়ে সিনেমা বানাতে লেগে গেলেন আমেরিকায় কোটি টাকার গাড়ী ড্রাইভ করা বাংলাদেশে বধূ । পিএইচডি করা আর হলো না!

 

শুটিং স্পট সিলেক্ট করতে যেয়ে মানিকগঞ্জ আরিচা রোডে মাইক্রো টা দলা মুষড়া হয়ে যায়! হাসপাতালের বেডে একদিন পর হুশ হলে “ক্যাথরিনা” জানতে পারে তার ভালোবাসা পরো পারে চলে গেছে শুধু সে বেঁচে আছে! মাসুদ এবং মানিকগঞ্জ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের সরকার নড়েচড়ে বসেন, সিনেমার ইলিয়াস কাঞ্চন “নিরাপদ সড়ক” আন্দোলনে নামেন। আরিচা রোডের কিছু প্রস্হতা বাড়ানো, কিছু আঁকাবাকা কমানো হয়।

আজও মনে হলে গা ছমছম করে। এই রোডে কত গেছি, দুর্ঘটনা হতে হতে বেঁচে গেছি তার কৃপায়!

 

ক্যাথরিনা আমেরিকা থাকেন।মেয়ে ওখানে পড়াশোনা করে। বছরে একবার আসেন বাংলাদেশে। যে কয়দিন থাকেন টিএসসি মোড়ে রেখে দেয়া সেই মাইক্রোটা পাশে দাড়িয়ে মাসুদের স্মৃতি হাতরান। দক্ষিণ বেঙ্গলের লোকেরা যেতে পথে “ভাঙা চৌরাস্তার” অনেক আগে “তারেক মাসুদের” বাড়ী! পদ্মার পর সেই পাগলা নদী টার (নাম মনে করতে পারলাম না) পরেই বাড়ীটা!

 

নারী জেদি হিংসুটে হীনমনা নিষ্ঠুর কৃপণ ছলনাময়ী, গরম জল ঢেলে স্বামী মারার ঘটনাও আছে! পুরুষ চরিত্র টানলাম না, তবে নারী কাউকে ভালোবাসলে তাকে ভোলে না! আমেরিকা ফ্রী সেক্স দেশ তবুও “ক্যাথরিনা” মাসুদের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন একজন নারী সমন্ত যৌবনা ক্যাথরিনা!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।

কবি সাহিত্যিক লেখক দের অনুরোধ টিএসসি মোড়ে গাড়ীটা দেখে আসবেন, ফেলে আসবেন একফোঁটা অশ্রু, কিভাবে সম্ভাবনাময় জীবন ঝরে যায়। সময় নেই,

মানবতা মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষ হয়ে দুনিয়া ছাড়েন!

 

মাসুদ এর ভালবাসা দাড়িয়ে আছে দুমড়ানো গাড়ীর পাশে!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত