বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

সে এক কষ্টের কাহিনি

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২৭.১২.২০২৩

 

বিজ্ঞাপন

আজ থেকে প্রায় ৫২ বছর আগে বাংলাদেশ নামক একটা দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছিলো! সেই যুদ্ধের শহীদ হয়েছিলো অনেক মানুষ। কত নাম না জানা বাঙালি ভারতীয় রাশিয়ান! আজ একজন শহীদ উপজাতির জন্ম দিবস। তিনি বিহারের ছেলে, আদিবাসী হলেও দারুন সাহসী তেজ দীপ্ত ঈমানদার ছিলেন। ত্রিপুরার যুূূ্দ্ধে জয়লাভ করে ত্রিপুরা সীমান্তে হিলির সন্মুখ সমরে প্রান হারান! সেই বীরের নাম ছিলো “এলবার্ট এক্কা”! তিনি ছিলেন ” Lance Naik”, তাকে ভারত সরকার “পরম বীর চক্র” খেতাবে ভুষিত করেছেন। এই খেতাব মাত্র আজ পর্যন্ত ২১ জনে পেয়েছেন। আজ তিনি বেঁচে থাকলে বয়স হতো ৮১ বছর।

 

প্রিয় পাঠক, এ লেখার সময় চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ালো।

কত নাম না জানা মানুষ জীবন দিয়েছে এদেশ স্বাধীন করতে আর যতোসব বেঈমান এ দেশের সুযোগসুবিধা নিয়ে চেটেপুটে খাওয়ার ফন্দি আটছে! কে মনে রেখেছে “সোয়াত শীপ” আমেরিকায় অস্ত্র গোলাবারুদ ভর্তি করে করাচি পাঠায় এবং সেখান থেকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী চিটাগং সাগরে বহির্মুখে নোঙর করে থাকে।

এই শীপ ১৭ ই মার্চ চিটাগং ৩ নং জেটিতে ভেড়ে। এই শীপ সম্মুখ ভাগ ১৭০ ফিটের মত উচু থাকে অস্ত্র বা মালামাল ভর্তির পরও।

মার্কিন নৌ বন্দর থেকে ছাড়ার সময় কম পক্ষে ২০০ বাঙালি ডিঙি নৌকা নিয়ে এত উচু শীপের সামনে দাড়ায় বাঁধা প্রদান করতে। কে রেখেছে সেই বাঙালিদের খোঁজ? শুধু খোঁজ রেখেছেন যে বাঙালি মেজর জিয়া সেই অস্ত্র সোয়াত শীপ থেকে খালাস করে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়ে ২৭ শে মার্চ রাত প্রায় পোনে আটটায় চিটাগং শহরে পৌঁছে বিশ্রাম নেন।

 

জিয়ার সামনে তিনবার পাকিস্তান নেভির লোকেরা প্রায় ২০০ মানুষ হত্যা করে এবং গানবোট ভর্তি করে গভীর সমুদ্রে ফেলে দেয় যা ভেসে উঠেছিলো কালুরঘাট

সমুদ্র পাড়ে। সব চেয়ে দুঃখের বিষয়, যে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আনসারি এক সাথে দশ হাজার লোক দেখে অস্ত্র খালাস বন্ধ করেছিলো, সেই অস্ত্র মেজর জিয়া বাঙালি সেপাই দিয়ে খালাস করে দেন এবং ২৬ তারিখ সারাদিন যারা খালাস করেছিলো তাদের আটকায় রেখে ২৭ তারিখ সারা দিন অভুক্তদের দিয়ে অস্ত্র খালাস শেষ হলে সবাই কে (প্রায় ৫০ জন)

ব্রিগেডিয়ার আনসারি জেটিতে নেভির ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।

 

কে রেখেছেন তাদের খোঁজ? কি পৈশাচিকতা, কি নিষ্ঠুরতম কর্ম। আমি তো কিছু করি নাই যা করেছে তা পাকিস্তানের ব্রিগেডিয়ার আনসারি করেছে! আমি তো “মুজিব” কে হত্যা করি নাই যা করেছে ফারুক রশীদ ডালিম রা করেছে! আমিতো স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি মাত্র !

মুজিব তো স্বাধীনতা ঘোষণা করেন নাই! তাই তো আমি ঘোষক !

 

কে মনে রেখেছেন সেই রাশিয়ার মাইন সুই পিং কম্ডার কে যিনি নিজেই খুলনার রূপসা নদীতে পাকিস্তানের পুতে রাখা মাইন ক্লিন করতে যেয়ে প্রান দিয়েছিলেন!

সৈন্যরা বলছে সব ক্লিন স্যার কিন্তু কমান্ডার সিগনাল পাচ্ছিলেন something full of explosives inside water. কোথায় তা ট্রেস করতে পারছিলো না রাশিয়ান সেপাইরা। তিনি নিজে ডুবে যেয়ে আধাঘন্টা পর খুঁজে পান কাঁদার ২ ফিট ভিতরে মাইনের অবস্হান! তিনি নিজেই রিস্ক নিয়ে তুলে ফেলেন কিন্তু বিধি বাম, জলের উপর ভাসার আগেই explosives burst out হয়ে যায়, নদীর জলের সাথে সাথে তার ছিন্নভিন্ন লাশ অন্ততঃ ৩০ ফিট উপরে উঠে যায় —-

 

একমিনিট সংবিধানে বিসমিল্লাহ লেখা যায়, দুদিনে সাড়ে চার হাজার সেনার ফাঁসির আদেশ সাইন করা যায়, ৩০ হাজার কনভিকটেড হত্যা লুঠ ধর্ষণে অভিযুক্ত কে ছেড়ে দেয়া যায়, ১১ হাজার চুড়ান্ত আদালত কতৃক দোষী রাজাকার আলবদর কে ছেড়ে দেয়া যায়, এক মিনিটে ৩ হাজার বছরের বাঙালি জাতিকে বাঙালি জাতি বানানো যায় কিন্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের রোড ঘাট বিমানবন্দর বিদ্যুৎ পথ ঘাট মাইন গ্রেনেড মুক্ত তিন মাসের ভিতর করতে মুজিব কে লাগে!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশেকে ভালোবাসেন!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত