শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম মাঠ

আপডেট:

আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জেও বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। জেলাজুড়েই চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা থেকে কেন্দ্রের নেতাদের কাছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন লবিং। সমানে প্রচার চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছেন। এক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপিতে এখনো নির্বাচন ঘিরে কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।জানা যায়,আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতো উন্মুক্ত রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীকে প্রার্থী দিলেও নেতাকর্মীরা যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এ বিষয়ে দলের ভেতরে আলাপ-আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মত এবারো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের আশায় দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের দায়িত্বশীলদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকায় সরব রয়েছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রার্থিতার প্রচার প্রচারণা।জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই প্রথম ধাপের তফশিল ঘোষণা হবে।তাই ভেতরে ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু করেছেন।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ এ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের চার নেতা সহ স্বতন্ত্র একাধিক নেতা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন।সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।সেই নির্বাচনে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন।তবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেও তাকে হারিয়ে বিজয়ী হন বিদ্রোহী প্রার্থী তৎকালীন ভাইসচেয়ারম্যান মাসুদ আল মামুন খান।গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে ফেল করলেও সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন এবারো দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।তিনি ছাড়াও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গত নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ আল মামুন খান ও এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়াও আরও চার নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বৌলাই ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো: সাজ্জাদুল ইসলাম।এছাড়াও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সাফাত।শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছে তিনি।জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইদ্রিস আলীর ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ সাফাত ইতিমধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।করোনাকালীন দুর্যোগময় মুহুর্তে তিনি সদর উপজেলার মানুষের পাশে ছিলেন।এ ছাড়াও ১১ টি ইউনিয়নে তার রয়েছে নিজস্ব বলয়।দলীয় নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষের সাথে রয়েছে তার নিবিড় যোগাযোগ।ক্লিন ইমেজের পরিচ্ছন্ন এই সাবেক ছাত্রনেতাকে টেক্কা দিয়ে এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হতে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে অন্য প্রার্থীদের।এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সাফাত বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবত সদর উপজেলাবাসীর সুখ দুখে পাশে আছি।করোনাকালীন সময়েও আমি মানুষকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছি।এখন কনকনে শীতের মধ্যে ১১ টি ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি।তাই সদর উপজেলাবাসীর কাছে আকুল আবেদন বাইরের ভাড়াটিয়া কোন লোককে ভোট দিয়ে আর বিজয়ী করবেন না।কারন ঘরের ফুত চুরি করলেও ভালা।বাইরের ছেলে চুরি করলে গায়ে মানে না।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনি মনোনয়ন চাইবেন।দল মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন,আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো।আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।গত নির্বাচনে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন বলেন,এবারও আমি মনোনয়ন চাইবো।আশা করি নেত্রী আমাকেই আবারো মনোনয়ন দিবেন।বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হলেও এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মো: সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি।আশা করি আমি দলীয় মনোনয়ন পাবো।জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক একেএম সামসুল ইসলাম খান মাসুম বলেন,দলের দু:সময়ে যারা ছিল এমন ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে সদর উপজেলাবাসী উপকৃত হবে।অতীতে যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত দক্ষ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে বলে মনে করি।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক
বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এম এ আফজল বলেন,দলীয় প্রার্থী কারা হবেন এখনো বিষয়টি ক্লিয়ার না।আরো কিছু সময় গেলে পরে হয়তো বুঝা যাবে কে প্রার্থী হয়।দলীয় মনোনয়ন দেবেন দলীয় সভানেত্রী। তবে আমরা চাইবো যারা মনোনয়ন চাইবেন তাদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীকেই যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত