রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

৭ ই মার্চ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা

আপডেট:

এই

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তারিখ ঃ ৭ ই মার্চ ২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

উত্তাল মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ চলছে! ইয়াহিয়া ভূট্টা সংসদ অধিবেশন না দিয়ে সময় ক্ষেপন করে যাচ্ছেন, উদ্দেশ্য আমেরিকা থেকে অস্ত্র বোঝাই সোয়াত শীপ করাচি পোর্ট থেকে চিটাগং পৌছানো পর্যন্ত অপেক্ষা! ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষন দিবেন জনতার উদ্দেশ্য! জনগন অধীর আগ্রহে সকাল থেকে রেসকোর্সে দলে দলে আসছে বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত স্বাধীনতা ঘোষণা দিবেন।

ইয়াহিয়ার পূর্বপাকিস্তান প্রেস সেক্রেটারি “মেজর সিদ্দিক সালিক” তার লেখা বই ‘The witness to surrender’ এ বলেছেন, “আমি সেনানিবাসে পূর্ব পাকিস্তান সেনা প্রধান কে জিজ্ঞেস করলাম, মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করলে আপনারা কি করবেন? সাথে সাথে জবাব এলো, বৃটিশ ব্রিগেডিয়ার ডায়ার পাঞ্জাবের অমৃতসরের জানি ওয়ালা বাগ স্টেডিয়ামে জনসভায় কি করেছিলো। আমরা তো তেমন রেসকোর্সের চারিদিকে মেশিনগান ফিট করে রেখেছি! তেমন কিছু ঘটলে মেশিনগান গর্জে উঠবে চারিদিক থেকে —

শাসন করার জন্য ও কেউ থাকবে না শাসিত হওয়ার জন্য ও কেউ থাকবে না!

 

বঙ্গবন্ধু ভাষন দেয়ার জন্য স্টেজে ওঠার সময় রব সহ কয়েকজন বলেছিলেন, ” স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন, জনগনের চাপ আছে, বঙ্গবন্ধু দারুন মেজাজে বলেছিলেন, “I know what I have to do, the Peoples are not my leader I am the leader of the peoples, I would do what is best for the peoples!

প্রিয় পাঠক, এ দেশের কিছু গোবর মস্তিষ্কের লোক এখন ও দেখবেন বক্তৃতা বিবৃতিতে মুজিবের ভুল জনগনের কাছে নির্লজ্জের মত বয়ান করে! তার মধ্যে একটা হলো মুজিব দশ লক্ষ লোক হাতে পেয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো না কেন? মুজিব লেলিন মাও সে তুং থেকে ও বেশী জ্ঞানী ছিলেন। মুজিব বাদ ও ছিলো লেলিন বাদ, মা-ও বাদ থেকে উৎকৃষ্ট জনগন কল্যানকর। মুজিব বাদ মাও লেলিনের মত ধর্ম ঝেটিয়ে বিদায় করা হয় নাই বরং বঙ্গবন্ধু বুঝতেন, ধর্ম না পালন করলে মানুষ মানবতা মনুষ্যত্ব সম্পন্ন হয় না, ঈশ্বর ভীতিই মানুষ কে সৎ হতে শত ভাগ সাহায্য করে তাই ধর্ম রেখে তিনি শুধু অর্থনৈতিক সাম্য বন্টন চেয়েছিলেন। এই মুজিব বাদ বিশ্বে কায়েম হলে সারা বিশ্ব শান্তময় হতো!

মুজিব যাদের অনুসরন করতেন তাদের মধ্যে নেতাজি সুভাষ অন্যতম। তিনি জানতেন এমন একটা সুযোগ ইয়াহিয়া ভূট্টো চান? গন হত্যার সুযোগ তিনি দেন নাই, বাঙালি কে বিছিন্নতাবাদী আখ্যা দিক পাকিস্তান শাসকরা এবং বিশ্বের কাছে গন হত্যা জায়েজ করুক সে সুযোগ তিনি দেন নাই! তিনি বন্দুক পাকিস্তানের ঘাড়ে রেখেই ফায়ার করতে চেয়েছিলেন। আগে অনেক বার লিখেছি, গ্রিক দার্শনিক ‘গোখলে’ বলেছিলেন বাঙালি এমন ই এক জ্ঞানী জাতি তার আজ যা ভাবে বিশ্ব তা একসপ্তাহ পরে বুঝতে পারে! বঙ্গবন্ধু পায়ের নখ থেকে চুল পর্যন্ত বাঙালি ছিলেন! তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন পরোক্ষভাবে যা পাকিস্তানের মোটা মাথায় ঢোকে নাই।

 

লেখক মেজর সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, ৭ ই মার্চ রাতে যখন প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন করলাম, কি হলো তোমাদের পরিকল্পনা, মুজিব তো স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিলো! সবাই আকাশ থেকে পড়লো, সব সেনা অফিসার ভাবলো আমি তো কলম লেখক আবার ইয়াহিয়ার পূর্বপাকিস্তান প্রেস, আমি সব কিছু বেশী দেখি, যখন সব কিছু ব্যাখ্যা দিয়ে মুজিবের স্বাধীনতার ডাক গুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখালাম, মেজর জেনারেল টিক্কা খান তখন পূর্ব পাকিস্তান গভর্নর, তিনি চীৎকার দিয়ে বললেন, “গাদ্দার মুজিব তো আমাদের ফাঁকি দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফেলেছে!

আমি সেনানিবাসের প্রেস কাউন্সিলিং সহ রেসকোর্সের সব মুজিব ভাষন ইয়াহিয়া খান কে পাঠিয়ে দিলাম।

তিনি মুজিব কে বাকী পদক্ষেপ থেকে থামাতে পূর্ব পাকিস্তান সফরের তারিখ ঘোষনা করলেন কিন্তু

পূর্বপাকিস্তানে মুজিব শাসন চলতে থাকলো!

অফিস আদালত স্কুল কলেজ ব্যাংক বীমা মিল কলকারখানা বন্ধ রইলো কিন্তু তার নির্দেশ মত বেতন দিতে হলো সবাইকে! রেডিও টেলিভিশন আমাদের কথা বন্ধ করে দিলো এবং ভজন ভক্তিমূলক গান চলতে থাকলো যেমন, ” হে মাওলা আমার কিস্তি কূলে পৌছে দে”। উল্লেখ্য মুজিবের নির্বাচন প্রতীক ছিলো “কিস্তি” মানে নৌকা!

 

সিদ্দিক সালিক আরও লিখেছেন, “আমার মনে হয়েছে দশ লক্ষ লোক ভাষন শেষে মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে ফিরে গেলেন মনে হয়েছে তারা কোন মসজিদ মন্দির থেকে ঐশ্বরিক বানী শুনে বাসায় ফিরছে!”

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত