লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ .১৬.০৪.২০২৪
গত ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজি সুভাষ বোসের জন্ম দিন ছিলো, নিমন্ত্রিত ছিলাম কাঁটাবন একটা অনুষ্ঠানে, আধা ডজন ডক্টরেট জ্ঞানী ব্যক্তির উপস্থিতি ছিলো বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিষয়বস্তু ছিলো “সুভাষ বোস থেকে মুজিব!” বিনম্র শ্রদ্ধা আমার বাংলার দুই দিক পালকে।
বাংলা মায়ের গর্ভে হাজার-হাজার জ্ঞানী গুনি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ডক্টরেট বিজ্ঞানী কবি সাহিত্যিক শিল্পী জন্ম নিলে ও ব্যাঘ্র জন্ম নিয়েছিলেন মাত্র দু’জন, নেতাজি সুভাষ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব!
প্রিয় পাঠক, বিশ্বে জাতীয়তাবাদ নির্ধারিত হয় ভাষা ভিত্তিক ও ধর্ম ভিত্তিক। বিশ্বে প্রায় ৪৩০০ ধর্ম আছে তা হলে ধর্মভিত্তিক ৪৩০০ জাতি আছে। বিশ্বে মোট প্রায় ৭১৬৮ ভাষা আছে। বাংলার অবস্হান সপ্তম। প্রায় ২৭ কোটি লোক বাঙলায় কথা বলেন! আরবীতে সাড়ে ২৭ কোটি লোক কথাবলে। এমনি ইংরেজি ১৫০ কোটি, চাইনিজ ম্যান্ডারিন – ১১২ কোটি, হিন্দি ৬০কোটি, স্প্যানিশ ৫৪ কোটি!
সাত সহস্র বছর প্রথিত শিকড় সপ্তম অবস্হান বাঙালির হয়ে ও তারা নির্যাতিত আজীবন। নেতাজি সুভাষ দুবার ১৯৩৮, ১৯৩৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেস সভাপতি হয়েছেন। প্রতিবারই গন্ধী নেহেরুর রোষানলে পড়েছেন। ত্রিপুরা সন্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ও তাকে পদত্যাগ করতে হয়!
পাকিস্তান নামক রাস্ট্রের ৫৬% মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলতো অথচ জিন্নাহ পাকিস্তানের ৩.২৭% লোকের ভাষা উর্দু কে নিজ মুখে রাস্ট্র ভাষা করার জন্য পূর্বপাকিস্তান সফরের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ঘোষনা করলেন Urdu and only Urdu should be the state Language ! জীবন দিতে হলো বাঙালির ভাষা প্রতিষ্ঠায়!
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট (ভাসানী শেরেবাংলা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মুজিব জোট) জয়লাভ করে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় মীরজাফরের বংশধর ইস্কান্দার মির্জা অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা কেড়ে নেয়!
এখন আমরা হিন্দি বা উর্দু লোক দ্বারা নিষ্পেষিত নই কিন্তু কিছু লোক বাঙালি আর মুসলমান কৃষ্টি সাংঘর্ষিক বিতর্ক তৈরি করে চলছে ফেজবুক টুইটারে! হতে পারে তারা যারা মুসলমানের “মু” মানসিকতার নয়, কুরআনের মুসলমান নয়, মুসলমান কিন্তু ইসলাম বিহীন, তাকওয়া পূর্ণ জীবন পালনকারী নয়, বিতর্কের জন্য বিতর্ক সৃষ্টি করা! সভ্য দ্রাবিড় থেকে এই ভূখন্ডে সাত সহস্র বছর আগে যে বাঙালি শিকড় বিস্তার করেছিলো আর্য অনার্য ধুয়া তুলে এদের পূর্ব পুরুষরা তখন থেকে যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে আজ ও তা পিছু ছাড়ে নাই!
বঙ্গবন্ধু মুজিব ১২ বছর জেল খেটেছেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় সহ তাকে দুনিয়া থেকে সরাবার অনেক ষড়যন্ত্র করেছে উর্দু স্পিকিংরা, সবশেষে আইয়ুবের বিরুদ্ধে গনঅভ্যুত্থান করেছেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছেন ১৬৯ আসনের ১৬২ টি পেয়ে।
বাঙালি, তাই ক্ষমতা দেয়া হবে না, তিনি ২৫ মার্চ লেট নাইট স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন গ্রেফতার হওয়ার আগে! মেজর জেড এ খান তার বই The way it was এ লিখেছেন, তিনি মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষনা শেষ বাক্য “—- Your fight must go on untill the last soldier of the Pakistan occupation Army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved! ” তিনি গ্রেফতার করতে যেয়ে শুনেছেন! তার নির্দেশে নয় মাস যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ বাঙালির জীবনের বিনিময়ে ও চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছি আমরা!
হতভাগা বাঙালি সাত হাজার বছর পুরানো জাতি এবং বিশ্বে ৭ ম বৃহৎ জাতি হয়ে ও শাসিত হয়েছে তুর্কী আফগান মোগল পর্তুগিজ ইংরেজ আর্মেনীয় দের দ্বারা। ইংরেজ তাড়াতে অকুতোভয় বাঙালি জীবন দিয়েছে অকাতরে! ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরাম সূর্য সেন নন্দকুমার হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে ভারত স্বাধীন করেছেন তেমনি পাঞ্জাবিদের বুলেটের সামনে বুক পেতে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন বাঙালি সূর্য সন্তানরা!
প্রিয় পাঠক, আজ ও মুজিবের পিছনে বিতর্ক ছাড়ে নাই তার অগ্রজ সুভাসবোসের পিছন থেকে বিতর্ক দূর হয় নাই! আমি ভারতের কোন একটা পত্রিকায় পড়েছি, সুভাষ বোস কেন সিঙ্গাপুর জাপানি সেনার পাশাপাশি তার হিন্দি ফৌজ নিয়ে যুদ্ধ করে বৃটিশ তাড়ালেন? কেন তিনি হিটলারের নাৎসি বাহিনীর ইহুদি নিধন সমর্থন করলেন ইত্যাদি!
অথচ জয় হিন্দ, সুভাসবোসের মস্তিষ্ক নিসৃত শ্লোগান তেমন মুজিবের “জয়বাংলা”, গান্ধীকে সুভাস বোস ই জাতির জনক ঘোষণা করেন।
যে চার্চিল ৪০ লক্ষ ভারতবাসীকে হত্যা করেছিলো শুধু তার আমলে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গান্ধী নেহেরু সমর্থন করলেও সুভাষ সমর্থন করতে পারেন নাই। তিনি ভারতকে স্বাধীন করতে সশস্ত্র সংগ্রামের বিকল্প দেখেন নাই তার ২৩ বছরের জুনিয়র বাংলার ব্যাঘ্র মুজিব ও জানতেন সশস্ত্র যুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হবে না কিন্তু বন্দুক টা পশ্চিমােদের ঘাড়ে রাখতে হবে।
বঙ্গবন্ধু মুজিব।



