শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারি চাকুরী কেন চায়, আইন তার রক্ষা কবজ

আপডেট:

দুটো কারনে মানুষ বছরের পর বছর কর্মহীন থেকে হলেও সরকারী চাকুরির পিছনে ছুটে। ১. job security. একবার চাকুরীতে ঢুকতে পারলে সারাজীবন বসে বসে আরাম করা যায়। বড় ধরনের অপরাধ না করলে চাকুরী যাবার কোন সম্ভাবনা নেই। মানুষ মুলত জব সিকিউরিটির জন্য সরকারী চাকুরির পিছে ছুটে।
২. (পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগকৃত) সরকারী চাকুরিতে জবাবদিহিতা খুবই সামান্য। অর্থাৎ ইচ্ছামত যখন খুশি অফিসে আসলেন, সেবা গ্রহীতা ঘন্টার পর ঘন্টা সরকারী চাকুরীদের জন্য বসে থাকলেও তাদের কিছু আসে যায়না। এদের ততবির করে, তেল মালিশ করে, ঘুষ প্রদান না করে জীবনেও কোন সেবা নির্ধারিত সময়ে পাওয়া সম্ভব না।বেসরকারি চাকুরির পরিবেশ ঠিক এর উলটো। এখানে কোন জব সিকিউরিটি নেই। কর্মীর গ্রাহকসেবার মান খারাপ হলে বা মালিক কোন কারনে কর্মীর উপর বিরাগভাজন হলে তাকে ছাঁটাই করতে দ্বিধা করে না। তরুণদের সরকারী চাকুরির প্রতি উন্মাদনা কমাতে হলে সরকারী চাকুরীতে এই বাড়াবাড়ি রকমের জব সিকিউরিটিকে অনেক কমিয়ে আনতে হবে। আর বেসরকারি চাকুরীতে জব সিকিউরিটি বাড়াতে হবে, শ্রম আইন শক্তিশালী করতে হবে যাতে করে মালিক চাইলেই সামান্য কারণে কর্মী ছাটাই করতে না পারে। বেসরকারি কোম্পানির চাকুরীতে নুন্যতম বেতন যেন সরকারী চাকুরীর নুন্যতম বেতনের চেয়ে বেশি থাকে, মালিক পক্ষ যেন কর্মীদের ঠকিয়ে অধিক মুনাফা না করতে পারে সেটা সরকারকে আইন করে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী চাকুরীর আকর্ষণীয় যে দিক গুলো আছে অর্থাৎ জব সিকিউরিটি থাকবেনা, ঘুষ খাওয়া দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া ও নিয়মবহির্ভূত অনৈতিক যে আর্থিক সুবিধাগুলো বর্তমানে পায় সরকারী চাকুরীরা এগুলো বন্ধ করতে হবে। সকল অবৈধ্য উপার্জনের রাস্তা বন্ধ করে, আমলাদের ক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে পারলে, সরকারী চাকুরীকে কঠোরভাবে জনগণের নিকট জবাবদিহিতামূলক করতে পারলে, সরকারী চাকুরী কঠোর পরিশ্রমের কিন্তু সুবিধা কম, ঘুষ খেলে সাথে সাথে চাকরি থাকবেনা- এরকম একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে দেখা যাবে আগ্রহীর তরুনদের উন্মাদনা অর্ধেকে নেমে আসছে। আর তখনই উন্মত্ত এই তরুণদের ভিড়ে পেছনে পড়ে যাওয়া প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষগূলোকে পাওয়া যাবে।
তথ্য সুত্র : ফেইজ বুক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত