রবিবার, মার্চ ২২, ২০২৬

বাংলাদেশ আইনের শাসন ও পুলিশের ভুমিকা

আপডেট:

শুধু পুলিশ কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবেনা। পুলিশ কমিশন মুলত পুলিশের কিছু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের জন্য করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু জনগনের স্বার্থে আমরা আরও কিছু আইন প্রনয়নের সুপারিশ করছিঃ-জিডিকে ডিজিটাইলেজেশন করতে হবে। একজন ভুক্তভোগী মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফরম্যাট যেন জিডি করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এবং পুলিশ যেন ১ ঘন্টার মধ্যে টেলিফোনে/ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রেসপন্স করে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে।-জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে করা জিডিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করতে পুলিশকে প্রোএক্টিভলি ভুমিকা রাখতে হবে, এবং জিডি করেও পরবর্তীকালে হত্যাকান্ড সংঘঠিত হলে এটিকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে গন্য করতে হবে, ওসিকে ডিমেরিট পয়েন্ট দিতে হবে এবং শাস্তি হিসেবে বেতনের ২ টি ইনক্রিমেন্ট ডাউন করতে হবে। এ ব্যাপারে পুলিশের গাফিলতি আছে কিনা সেটি নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করতে হবে পুলিশ জিডি/মামলা গ্রহন না করলে তার কারন অনলাইন সিস্টেমে লিখিত অথবা ভিডিওর রেকর্ড আকারে সংরক্ষণ থাকবে হবে যাতে পরবর্তীকালে পুলিশের গাফিলতি আছে কিনা সেটা সঠিকভাবে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া যায়।-স্বচ্ছতার জন্য থানা পুলিশের সাথে বাদীর বা ভুক্তভোগী ব্যাক্তির কথোপকথন/ সেবা গ্রহন সময়কালের পুরোটাই ভিডিও রেকর্ড এর ব্যবস্থা করতে হবে ( পুলিশ বাদীর সাথে অফ দ্যা রেকর্ড এ কোন কথা বলতে পারবে না বা সেবা দিতে পারবে না) এবং সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে ডিজিটাল সিস্টেমে সংরক্ষন করার ব্যাবস্থা থাকতে হবে যেটি পুলিশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবেনা।পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করলে বা গ্রেফতার অভিযান করলে সেটার পুরো সময়কালের ভিডিও রেকর্ড রাখতে হবে এবং অভিযানের সময় যদি বেআইনি কোন ঘটনা ঘটে, অভিযানের পুরো ভিডিও অবিকৃতভাবে প্রকাশ করতে হবে। এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। মিথ্যা মামলা/ভুয়া মামলা থেকে ভুক্তভোগীকে বাচাতে গ্রেফতার অভিযানকালে প্রতিটি পুলিশ সদস্যের পোশাকের সাথে অডিও ও ভিডিও সিস্টেম (মাইক্রো ক্যামেরা) লাইভ অবস্থায় সংযুক্ত রাখতে হবে যাতে করে কোন পুলিশ সদস্য কাউকে ফাসাতে না পারে, অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়ানোর সুযোগ না পায়।পুলিশ কাউকে রিমান্ডে নিয়ে বা থানা হেফাজতে নির্যাতন করতে পারবেনা, এক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশের স্ট্যান্ডার্ড ফলো করতে হবে, আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড থাকতে হবে যার একটি কপি আসামীপক্ষের নিকট পরবর্তীকালে উপযুক্ত সময়ে হস্তান্তর করা হবে। ভিডিও রেকর্ডিং ছাড়া আসামীকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবেনা।পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুলিশের কর্তৃক সংঘঠিত অপরাধ বা অনিয়ম তদন্ত করতে স্বাধীন একটি কমিশন গঠন করতে হবে যারা পুলিশ বিভাগের অংশ হবেনা। কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনারগন শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছায় নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন না। তাকে সরকারি দল, প্রধান বিরোধী দল, অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনসহ, নাগরিক সমাজ এবং ডিজিটাল ভোটের মাধ্যমে “সিভিল সোসাইটি”র দ্বারা নির্বাচিত হতে হবে।প্রতিটি থানা স্বাধীন থানা হিসেবে কাজ করবে এবং থানা পুলিশের জবাবদিহিতা শুধুমাত্র স্থানীয় জনগনের নিকট থাকবে, জনগন সেবা গ্রহন শেষে প্রতিটি সেবার বিপরীতে অনলাইনে রিভিউ দিবে। যদি কোন অভিযোগ থাকে সেক্ষেত্রে সেবা গ্রহনের ভিডিও দেখে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যাবে।-এছাড়া স্থানীয় সর্বদলীয় রাজনৈতিক কমিটি ও অরাজনৈতিক সিভিল সোসাইটির সমন্বয়ে একটি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করা যেতে পারে যারা প্রতি মাসে একটি গণ শুনানীর ব্যাবস্থা করবে যেখানে পুলিশের সেবা সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে অভিযোগ করা যাবে, সেবার মান বাড়াতে স্থানীয় জনগন তাদের মতামত জানাতে পারবে।শুধুমাত্র কিছু রুটিন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশ নিয়োগের কোন দরকার দেখিনা (যা প্রকৃতপক্ষে একটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ধারনা)। তবে চৌকস তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিসিএস (ইনভেস্টিগেশন)- এরূপ ক্যাডার নিয়োগ করা যেতে পারে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর আদলে দক্ষ মেধাবী তদন্ত কর্মকর্তা তৈরি হবে। প্রত্যেক বিসিএস ইনভেস্টিগেশন অফিসার মাঠ পর্যায়ে জটিল ইনভেস্টিগেশনের কাজগুলো করবেন। এসপি, আইজি, ডিআইজি- এসব ঔপনিবেশিক পদ বাতিল করতে হবে।-পুলিশ যাতে ঘুষের বিনিময়ে সেবা দেয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশে চাকরি করতে হলে কাগজের নোটের মাধ্যমে তার ব্যাক্তিগত কেনাকাটাসহ সকল লেনদেন বন্ধ করতে হবে। পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যরা যাবতীয় আর্থিক লেনদেন করবে অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমে যেটা জনগনের নিকট দৃশ্যমান থাকতে হবে। পুলিশ যাতে নির্বিঘ্নে ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে কেনাকাটা করতে পারে তার জন্য সব ধরনের দোকানপাটে ডিজিটাল পেমেন্ট রিসিভ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এর প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল ইকোসিস্টেম- এটি শুধু স্পেসিফিকভাবে পুলিশের দুর্নীতি কমানোর জন্য বাস্তবায়ন করতে হবে এমন নয় বরং এটি সার্বিকভাবে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করবে।
-একটি বিশেষ ওয়েবসাইটে পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যদের ও তাদের পরিবারবর্গের সম্পত্তির হিসাব জনসাধারনের নিকট ২৪ ঘন্টা উন্মুক্ত থাকতে হবে (এটি সার্বিকভাবে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যই প্রযোজ্য)।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত