বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

হত্যাকারী ইয়াবা ব্যবসাই নিজাম হাজারী কাছে জিম্মি ছিলো ফেনীর ১৫ লক্ষ্য মানুষ

আপডেট:

ফেনীর রাজনীতিতে সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী। এক সময় । ফেনীর সত্যকারে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের হটিয়ে ও অশিক্ষিত সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তৈরি করে আলাউদ্দিন নাসিম উপর ভর করে ফেনীর একচ্ছত্র আধিপত্য গড়েন নিজাম। এর পর আলাউদ্দিন নাসিমকে ফেনীর সব কিছু থেকে হটিয়ে অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী সোহেল চৌধুরী ও জুয়েল চৌধুরী কে দিয়ে ছাগলনাইয়া ও ৬নং পাঠান নগর, শুভপুর বালু মহল নিয়ন্ত্রণ করে। সোহেল চৌধুরী এর আগে জয়নাল হাজারীর ক্যাডার থাকার সময় তাকে জয়নাল হাজারী জেলে দিয়ে দে। জেল থেকে বেরিয়ে অফ্রিকায় ছলে য়ায়। পরে ফুলগাজী উপজিলার চেয়ারম্যন একরামের হাত ধরে নিজাম হাজারী ঘনিষ্ঠ হয়। ৫ই আগষ্ট তার সাটারগান ও অনেক অস্ত্র নিয়ে নিজাম হাজারী নির্দেশের ছাত্র জনতার উপর গুলি চালায়। এসে এখনো পালাতে পারেনি বলে গুনজ্জন রয়েছে। মাদক ও ইয়বা ব্যবসার সব টাকা সোহেল চৌধুরী ও তার ভাই জুয়েল চৌধুরী নিজাম হাজারী কে দিতো। কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব। তার এই সব অপকর্মের সহযোগিতা করেন যোগাযোগ মন্ত্রী আওয়ামীলীগের সাধারণত সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফেনী পৌরসভার মেয়র হন। এরপর তিনবার সংসদ সদস্য। বাগিয়ে নেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদও। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত ছিলেন ফেনীর সর্বময় ক্ষমতার অধিপতি। সরকার পতনের পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যান ভারতে। সেখান থেকে দুবাই। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।জানা গেছে- দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন নিজামী হাজারী। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দখলে নেওয়া চক্রের সাবেক ৪ এমপির মধ্যে তিনি অন্যতম। চক্রটি দেড় বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীতে দিন-দুপুরে গুলি ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে হত্যা করা হয় এমপি নিজামের ইশারায়। এভাবে আরও অনেক লাশ পড়ে। কিন্তু সব সময় নিজামী হাজারী ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৪ আগস্ট তার নির্দেশে ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করা হয়। এতে ১১ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে ৮টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নিহতদের পরিবার।নিজাম হাজারীর চট্টগ্রামে আগ্রাবাদে মাছ কাদের সাথে বিরোধের জন্য চট্টগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন। আগে থেকে ফেনী জেলা ছাত্রলীগে সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আদলের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো। অনেক বলে জয়নাল হাজারীর তাকে ফেনীতে এনেছে এটি মিথ্যা কথা ও অপপ্রচার বলেছে ফেনীর আওয়ামীলীগের সকলে। উত্থান চট্টগ্রামের আ জ ম নাছিরের মাধ্যমে। চট্টগ্রামে অস্ত্রের কারবারি ছিলেন নিজাম। ২০০১ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে জয়নাল হাজারী এলাকা ছাড়েন। এতে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে ফেনী আওয়ামী লীগ। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে আওয়ামী রাজনীতির হাল ধরতে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী আসেন নিজাম হাজারী। তৈরি করেন নিজের ক্যাডার বাহিনী। একপর্যায়ে কোণঠাসা করে দেন গুরু জয়নাল হাজারীকেও। এরপর প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, তাকে চাঁদা না দিয়ে ফেনীতে থাকার উপায় ছিল না সিএনজিচালক থেকে শিল্পপতি পর্যন্ত।উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল। নামমাত্র টাকায় এসব জমি দখল করা হয়।ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত নিজাম হাজারীর নামে ৮টি হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলা হয়েছে। তার নামে নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ধরার জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর ফেনী ক্যাম্পের প্রধান মেজর ফাহিম বলেন, বিভিন্ন অপরাধে নিজাম হাজারীর নাম আসছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত