সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

ফ্যাসিস্ট, ফ্যাসিবাদের দোসর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সর্বস্বান্ত হওয়া

আপডেট:

ফ্যাসিস্ট, ফ্যাসিবাদের দোসর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত কিছু মানুষের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া
—————–
Fascism বা ফ্যাসিবাদ হলো – স্বৈরাচারী শক্তি, জোরপূর্বক বিরোধী দলের দমন, এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী বিধিনিষেধ।সকল শাসন ও ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ ও আইনের শাসন দুটো পরস্পর বিরোধী অবস্থান। আমার প্রশ্ন হলো –
১) যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালন করেন, তারা কি সকলেই ফ্যাসিস্ট? ২ল) গত ১৫ বছরে যারা ফ্যাসিবাদ করেছেন, তাদের মতাদর্শের বিরোধী একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্থিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের সাথে আপোষ করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেন নি কি ৩) ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধি অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করা মানুষেরা কেন ভুক্তভোগী হবেন?২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব হয়েছিল, কিন্তু ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ কে অবমূল্যায়ন করাটা যেমন দোষের, একইভাবে ৫ আগস্ট অবমূল্যায়ন করাটাও দোষের। উভয় ক্ষেত্রে মিল আছে যেখানে, তা হলো – বৃহত্তর জাতি/গোষ্ঠী/দল নিপীড়িত হচ্ছিলো। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার এর মতাদর্শের বেশ কিছু বিরোধী শিক্ষকের কথা বলতে পারি, যারা প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার এর দ্বারা অন্যায় সূযোগ পেয়েছেন? যেমন – রাবি সাবেক উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও হাইকোর্টের আদেশ উভয়টি লঙ্ঘন/অবমাননা করে, ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগে আমার পরিবর্তে তার (প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার) অতি পছন্দের প্রফেসর আল বাকী বরকতুল্লা কে সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন। কেন দিয়েছিলেন? নিশ্চয় প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বা অন্য কারোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিলো। আমার অপরাধ আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্যের অনিয়মের বিরুদ্ধে এককভাবে জোরালো আইনি লড়াই চালিয়েছিলাম, ফলে আমার আর্থিক সংকটে রাজশাহী শহরের সাগরপাড়ার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট বিক্রি করতে বাধ্য হই। প্রফেসর আল বাকী বরকতুল্লার মতাদর্শ সাবেক উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার এর সাথে মিল ছিলো না, সেকারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রফেসর আল বাকী বরকতুল্লা রাবি ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি হিসেবে বর্তমানে কোন ঝামেলা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন।কেউ সব আমলে সুবিধোভোগী হবেন, আবার কেউ সব আমলে নিগৃহীত হবেন, এটা কি যৌক্তিক ও মানবিক?আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য জায়গায় প্রকৃত ফ্যাসিস্ট এবং তাদের নিকট সুবিধা পাওয়াদের লিস্ট তৈরি করা দরকার। তবে আমি জীবন থাকতে আমার নৈতিক অবস্থান থেকে ইনশাআল্লাহ নড়বো না । মানুষ মরে একবার, তা হোক একজন আপোষহীন যোদ্ধার।

প্রফেসর ড. মু. আলী আসগর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

সুত্র, ফেইসবুক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত