বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

ফেনী প্রধান ডাকঘরের করুন হাল

আপডেট:

ফেনী প্রধান ডাকঘরের করুন হাল
**************************
এক সময় আমরা যারা ফেনীতে সাংবাদিকতা করি তাদের নিত্য যোগাযোগ ছিল প্রধান ডাকঘরের সাথে।তখন মেইল ছিলনা,ফোন ফ্যাক্স ছিলনা, মোবাইল ছিলনা।নিউজ আদান প্রদানের একমাত্র মাধ্যম ছিল প্রধান ডাকঘর। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হলে প্রধান ডাকঘর,তারপর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ছিল রেল ষ্টেশনের পাশে আর এম এস।সেটাও ফেল করলে আর কোন উপায় ছিলনা নিউজ পাঠাবার।তখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছিল ডাক বিভাগের লাল বাক্স গুলো।সেখানে আমরা খামের উপর খোলা ডাক বা বুক পোষ্ট সিল মেরে নিউজ ডুকিয়ে খামের মুখ খোলা রেখে বাক্সে ফেলে দিতাম। কখনো মিস হতে দেখিনি।প্রথম দিকে পাঁচ পয়সার ডাক টিকেট লাগিয়ে পোষ্ট করতাম।পরে দশ পয়সা,পনের পয়সা পর্যন্ত হয়েছে বলে মনে পড়ে।সেই ফেনী প্রধান ডাকঘরের করুন হাল দেখে খুব খারাপ লেগেছে।আজ বৃহস্পতিবার ডাকঘরের পাশের বহুতল ভবনে একটা প্রোগ্ৰাম ছিল।সেখানে যাওয়ার আগে ডাকঘরের অবস্থা দেখতে ঢুমারলাম।নিচ তলায় তেমন কিছু নেই। দোতলায় সারি সারি সব কাউন্টার খালি পড়ে আছে।দু’চার জন সেবা গ্ৰহিতা দেখলাম।২৮টা কাউন্টারের বেশীর ভাগই খালি।চেয়ারে কেউ নেই।যারা আছেন তারাও অলস সময় কাটাচ্ছেন। প্রধান কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সাথে আলাপ হয়েছে।তিনি জানালেন, ডাকঘরের মোট জমির পরিমাণ ৯৮শতক। এরমধ্যে তিন তলা ভবনটা ছাড়া বাকি প্রায় ৭০/৮০ শতক জমি খালি পড়ে আছে।যে জমির মূল্য আছে শতকোটি টাকার উপর।৩৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন।যাদের বেতন ভাতা বাবত মাসে খরছ‌ হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা।এসব সম্পত্তি,এসব ষ্টাপদের যুগোপযোগী কোন কাজে কি লাগানো যায়না?কেন সারা দেশে তাদের পেছনে শতশত কোটি টাকা খরছ করা হচ্ছে?তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করে সরকার চাইলে তাদের কাছ থেকে আরো অনেক বেশী সেবা নিতে পারেন।তাতে তারা উপকৃত হলেন,দেশ উপকৃত হবে, অর্থনীতি চাঙ্গা হয়।এসব দেখার কেন কেউ নেই?উপনেবেশিক আমলের সিষ্টেম ধ্যান ধারণা কেন আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত