শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

চোরাচালানের মাধ্যমে আসা ভারতীয় শাড়ির সয়লাভ শপিং মলগুলো

আপডেট:

দেশের বিপণিবিতানগুলোয় প্রতিদিনই কেনাবেচা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় শাড়ি। প্রতিবেশী দেশটি থেকে আনা এসব শাড়ির চাহিদাও দিনে দিনে বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশ ও ভারতের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেশটি থেকে শাড়ি আমদানির কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ী এবং আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, বাংলাদেশে ভারতীয় যেসব শাড়ি দেখা যায়, তার সিংহভাগই দেশে প্রবেশ করেছে অবৈধভাবে ও অননুমোদিত পন্থায়।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে ভারত থেকে শাড়ি স্থল, নৌ ও আকাশ—এ তিন পথেই প্রবেশ করে। শুল্কমুক্ত বিভিন্ন পণ্যের চালানের মধ্যেও স্থল বা নৌ পথে বিপুল পরিমাণ শাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিশেষ করে স্থল ও নৌপথে যন্ত্রাংশবাহী যেসব কনটেইনার বাংলাদেশে আসে, সেগুলোর সঙ্গেও প্রচুর শাড়ি আসার তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ভারতীয় অংশে জাহাজীকরণ তথ্যে শাড়ি রফতানির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বাংলাদেশ অংশে তার কোনো উল্লেখ থাচ বাংলাদেশে ভারতীয় শাড়ি সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে প্রবেশ করে প্রধানত বাহক বা এজেন্টদের মাধ্যমে। নৌপথে আনা হয় ট্রলারের মাধ্যমে। ব্যবসায়ী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব শাড়ি দেশে প্রবেশ করে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশের ভিত্তিতে। সীমান্ত এলাকা থেকে তা বিভিন্ন রুট ধরে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। চোরাইপথে প্রবেশ করা এসব শাড়ি এনে জড়ো করা হয় বস্ত্র ও পোশাকের বৃহৎ কয়েকটি পাইকারি বিপণিবিতানে। সেখান থেকে অন্যান্য বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। আবার চাহিদা ও দাম বেশি হলে আকাশপথেও শাড়ি আনা হয়। সেক্ষেত্রে উড়োজাহাজে শাড়ি আনা হয় ব্যক্তিগত পণ্য হিসেবে বাড়তি ওয়েট চার্জ (ওজনের ফি) পরিশোধ করে।
গত বছরের অক্টোবের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বেশকিছু ভারতীয় শাড়ি ও মখমলের কাপড় জব্দ করে কোস্টগার্ড। সে সময় বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আমদানীকৃত পাথরের নিচে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার ২১০ পিস শাড়ি ও তিন হাজার গজ মখমল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামালসহ ট্রাকটি ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতা বা অন্যান্য এলাকায় গিয়ে শাড়ির নকশা পছন্দ করে আসেন। এর পর চালান প্রস্তুত হলে প্রক্রিয়াটিতে যুক্ত হন মধ্যবর্তী এজেন্টরা। তারাই সীমান্ত দিয়ে শাড়ি পরিবহন করে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে পৌঁছে দেন। গোটা প্রক্রিয়াটিতে লেনদেন হয় প্রধানত হুন্ডির মাধ্যমে।নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে রাজধানীর পুরনো একটি বিপণিবিতানের এক ব্যবসায়ী বলেন , ‘দেশে ভারতীয় শাড়ি আসে প্রধানত বেনাপোল, সাতক্ষীরা, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলার সীমান্ত দিয়ে। এ শাড়ি নিয়ে আসার প্রক্রিয়ার সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী, দালাল ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনেকেই জড়িত বলে শুনতে পাওয়া যায়। আর চোরাচালানের মাধ্যমে আসা শাড়ির রুট নির্ধারণ হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে। এসব শাড়ি এনে প্রধানত রাজধানীর বঙ্গবাজারসহ বৃহৎ পাইকারি বিতানগুলোয় জড়ো করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা তা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। অনেক সময় আমরা লটে কিছু শাড়ি ভেজা অবস্থায় পাই। তখন জানা যায় যে এগুলো নৌপথে ট্রলারের মধ্যে লুকিয়ে নিয়ে আসা। ঢেউয়ের কারণেই হোক বা অন্য যেকোনোভাবে হোক এগুলো পানি লেগে ভিজে গেছে। আর আকাশপথেও ভারত থেকে কিছু শাড়ি আসে। তবে এগুলোকে একেবারে অবৈধভাবে আনা বলা যায় না। চাহিদা ও ভালো মুনাফার সুযোগ থাকলে শাড়ির বড় শোরুমগুলোর ব্যবসায়ীরা কলকাতা বা অন্যান্য এলাকা থেকে শাড়ি কিনে উড়োজাহাজে বাড়তি ওজনের ফি পরিশোধ করে ব্যক্তিগত পণ্য হিসেবে এসব শাড়ি নিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে খরচ একটু বেশি পড়ে ঠিক। কিন্তু শাড়ির দাম ও মুনাফা দিয়েই এ ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারেন তারা।রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলের তৃতীয় তলায় ৩০-৪০টি শাড়ির দোকান রয়েছে। প্রায় সবগুলোয়ই ভারতীয় শাড়ি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এখনকার বিভিন্ন দোকানের বিক্রয়কর্মী ও ব্যবসায়ীরা জানালেন, এসব দোকানে যেসব কাতান, বেনারসি ও সিল্কের শাড়ি বিক্রি হয়, তার সিংহভাগই ভারত থেকে আসে। তাছাড়া ভারতীয় শাড়ির চাহিদাও বেশি।এ শপিং মলের আরেকটি দোকানের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘ভারতীয় শাড়ির চাহিদা বেশি। এখানে যতগুলো শাড়ির দোকান আছে, সবগুলোয়ই ভারতীয় শাড়ি পাওয়া যাবে। এর কারণ হলো ভারতীয় শাড়ি তুলনামূলক সস্তা। দেশী বেনারসি শাড়ির চেয়ে ভারতীয় বেনারসির দাম কম। আবার নকশায়ও আছে ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য। আবার সব ধরনের শাড়ি বাংলাদেশে প্রস্তুত হয় না, যেমন কাঞ্জিভরম। তবে এ শাড়ির জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে অনেক। সেজন্য ভারতীয় শাড়ি আমদানি করা লাগে।’
এ শপিং মলে গতকাল শাড়ি কিনতে আসা ক্রেতাদের একজন আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা সারা আজমিন। তিনি জানালেন, চারটি শাড়ি কিনেছেন, সবক’টিই ভারতীয় কাতান শাড়ি। এগুলো কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নকশার দিক থেকে ভারতীয় শাড়িতে নতুনত্ব থাকে। তাছাড়া তুলনামূলকভাবে দামেও সস্তা।

তথ্য সুত্র : বনিক বার্তা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত