মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

ফেনী সহ সারাদেশে কিশোর গ্যাং

আপডেট:

ফেনী সহ সারাদেশে কিশোর গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফেনীর মাষ্টার পাড়া, পূর্ব উকিল পাড়া,পশ্চিম উকিল পাড়া, নাজির রোড়, জিয়া একাড, হাসপাতাল রোড় এই কিশোর অপরাধীদের অবাদ বিচরণ। আগের বড় ভাইরা না থাকলেও এখন তারা নতুন বড় ভাইদের কাছে এসে নতুন করে অপরাধ করছে।প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি-ধমকি। অস্ত্রের মহড়া। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ফেসবুকে ভিডিও আপলোড। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। সংঘাত-সংঘর্ষ। খুনখারাবি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ইভটিজিংসহ সবধরনের অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তাদের দাপটে পুরো ঢাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাং আতঙ্কে সন্ধ্যার পর বাসার বাইরে চলাফেরাও করছেন না নগরবাসী। দিন-দুপুরে প্রকাশ্যেও নানা অপকর্ম করছে তারা। বেপরোয়া এসব গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত কিশোরদের আইনিভাবে মোকাবিলা করতে নানা ঝক্কিঝামেলা আছে। বয়স বিবেচনায় তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়ের পালাবদলে কিশোররাই এখন অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ২৩৭টির মতো কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ১২৭টি। ঢাকায় যেসংখ্যক গ্রুপ থাকার কথা বলা হয়েছে বাস্তবে তার অস্তিত্ব খুব একটা মিলে না। তবে ঢাকায় অপরাধ জগতের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত এমন ৫০টির মতো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা মিলেছে। এরমধ্যে উত্তরা এলাকায় ২৩টি গ্যাং সক্রিয়। এদের মধ্যে, পাওয়ার বয়েজ, ডিসকো বয়েজ, বিগ বস, নাইন স্টার, নাইন এমএম বয়েজ, এনএনএস, এফএইচবি, জিইউ, ক্যাকরা, ডিএইচবি, ব্যাক রোজ, রণো, কেনাইন, ফিফটিন গ্যাং, পোঁটলা বাবু, সুজন ফাইটার, আলতাফ জিরো, ক্যাসল বয়েজ, ভাইপার, তুফান, থ্রি গোল গ্যাং, শাহীন-রিপন গ্যাং ও নাজিম উদ্দিন গ্যাং বেশি সক্রিয়। তেজগাঁও এলাকায় সক্রিয় মাঈনুদ্দিন গ্রুপ। মিরপুর-১১ এবং ১২ নম্বর এলাকায় বিহারি রাসেল গ্যাং, বিচ্ছু বাহিনী, পিচ্চি বাবু ও সাইফুলের গ্যাং, সি-ব্লকে সাব্বির গ্যাং, ডি-ব্লকে বাবু রাজন গ্যাং, চ-ব্লকে রিপন গ্যাং, ধ-ব্লকে মোবারক গ্যাং। কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে নয়ন গ্যাং। ধানমণ্ডিতে ৪টি গ্রুপ সক্রিয়। এদেরমধ্যে নাইন এমএম, একে- ৪৭ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ, রায়ের বাজারে স্টার বন্ড গ্রুপ। তুরাগে তালাচাবি গ্যাং। মোহাম্মদপুরে গ্রুপ টোয়েন্টি ফাইভ, লাড়া দে, লেভেল হাই, দেখে ল- চিনে ল, কোপাইয়া দে, ঝিরঝির গ্রুপ এবং ভাইব্বা ল গ্রুপ, ‘পাটোয়ারী গ্রুপ’ ‘আতঙ্ক গ্রুপ’ ‘চাপায়-দে আটিপাড়ায়, শান্ত গ্যাং, মেহেদী গ্যাং, খ্রিস্টানপাড়ায় সোলেমান গ্যাং, ট্রান্সমিটার মোড়ের রাসেল ও উজ্জ্বল গ্যাং। হাজারীবাগে বাংলা ও গেণ্ডারিয়ায় লাভলেট। বংশালে জুম্মন গ্যাং। মুগদায়, চান-জাদু, ডেভিল কিং ফুল পার্টি, ভলিয়ম টু ও ভাণ্ডারী গ্যাং। চকবাজারে, টিকটক গ্যাং ও পোঁটলা সিফাত গ্যাং সক্রিয়। শ্যামপুরে ফইন্নী গ্রুপ।গোয়েন্দা সূত্র বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। গ্যাং লিডারদের বয়স সাধারণ ২০ এর উপরে থাকে। প্রতিটি গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। বড় গ্রুপগুলোতে সদস্য আরও বেশি হয়। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে পাড়া-মহল্লার ছিঁচকে চোর, মাস্তান, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এমনকি অভিজাত ঘরের সন্তানও রয়েছে। তাদের কেউ কেউ পশ্চিমা কালচারে অনুপ্রাণিত হয়ে আবার কেউ কেউ এলাকাভিত্তিক গ্যাংয়ের প্রভাবে বাধ্য হয়ে গ্যাং এ জড়িয়ে পড়ছে। শুরুটা স্বাভাবিক হলেও একসময় তাদের পোশাক, আচরণ, কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। যা দেশীয় সংস্কৃতি ও সভ্য সমাজের সঙ্গে একেবারে মানানসই নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিত্য-নতুন ধারার অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। বিশেষ করে ঢাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাণ্ড বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত