বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

শেখ হাসিনা গনতন্ত্রের মানসকন্যা থেকে পতিত স্বৈরশাসক

আপডেট:

আচ্ছা, হাসু আপা- খুব জানতে ইচ্ছে করে, কোন শক্তির বলে আপনি বলতেন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাবে এমন কোনো শক্তি নেই। অথচ বাণী চিরন্তনে একটা কথা আছে-ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আপনার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়াও এটাই প্রমাণ করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- কোনো ক্ষমতাবানরাই বাণী চিরন্তনের এ বাণীকে বিশ্বাস করেন না। যেমনটা আপনিও করতেন না। তবে, আপা- গত ছয় মাসে আপনি একটি বাহাস এ দেশে সুন্দর করে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। এজন্য আপনাকে বাহবা দিতেই হয়। আপনার পক্ষে এখন মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ ঘেউ ঘেউ করেন। আপনার পালিয়ে যাওয়াকে তাড়িয়ে দেয়া উপাধি দিয়েছেন তারা। আর বলছেন, এটা ঠিক হয়নি। খুব সূক্ষ্মভাবে তারা ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তারা একবারও চিন্তা করেন না আপনার দীর্ঘ প্রায় ষোল বছর শাসনামলে দেশ পরিণত হয়েছিল রাক্ষসপুরীতে। কথা বললেই গুম, খুন। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন নিজ হাতে। যাতে করে পাঁচ বছর পর পর ভোট হবে। কিন্তু আপনি ও আপনার দল থেকে যাবে ক্ষমতায়। হাসিমুখে আপনি বঙ্গভবনে গিয়ে শপথ নিবেন। ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সংখ্যা বাড়বে। মানে কতোবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেটা মানুষ আঙ্গুলের কড়ায় গুনবে। প্রধানমন্ত্রী হয়ে শপথ ভাঙার কার্যক্রমে নামবেন। রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে একের পর এক কাজ করবেন। যাকে খুশি ধরে এনে শাস্তি দেবেন।

নির্বাচন। তাদের এই মতানৈক্য আপনার দলের কিছুটা হলেও লাভই হচ্ছে মনে হয়। এমনিতেই বাঙালি আত্মভোলা জাতি। গত ষোল বছর যে জুলুম চালিয়েছেন জাতির ওপর- মাত্র ছয় মাসে তা অনেকেই ভুলে বসে আছে। এটা আপনার জন্য মঙ্গল বলেই মনে হয়। দেশের রাজনৈতিক বাহাসে বিএনপি মনে হয় একা হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় অনেকে বলছেন, জামায়াত আর বৈষম্যবিরোধীরা এক কাতারে থাকবে। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি’র ওপর ষোল বছর নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানোর পরও ওরা আওয়ামী লীগকে হাত ধরে টেনে তুলবে। আবার আওয়ামী লীগও তাদের স্বার্থে বিএনপি’র সঙ্গে এক হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। অর্থাৎ দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে গেল। এসবই কিন্তু আন্দাজ। বাস্তবে কী ঘটে আল্লাহ মালুম। তবে, আপা জীবনে আপনি যে ভুল করেছেন তা থেকে শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন। এ মুহূর্তে আপনি কিন্তু একা হয়ে পড়েছেন। আপনার পাশে কেউ নেই। যতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হম্বিতম্বি করে মানুষকে জানান দিলেও মানুষ কিন্তু সব বোঝে। তাই বলছি, হম্বিতম্বি নয়, দেশবাসীর কাছে ষোল বছরের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করুন। ক্ষমা চান। তাহলে যদি জনগণ কিছুটা হলেও আপনাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু আপনি দেশ থেকে পালানোর দিনও যেভাবে আপনার নির্দেশে একের পর এক গুলি ছুড়েছে পুলিশ ও আপনার লেলিয়ে দেয়া গুণ্ডাবাহিনী- এ দৃশ্য মানুষ ভুলবে কীভাবে? দেশের প্রধানমন্ত্রী মানে ওই দেশের অভিভাবক। আপনি অভিভাবক হয়ে কী করে জনতার বুকে তীর বিদ্ধ করলেন। এ মুহূর্তে মনে পড়ছে বিখ্যাত সেই গানটি- মারিয়া ভুজঙ্গ তীর কলিজা করিল চৌচির/কেমন শিকারি তীর মারিল/বিষ মাখাইয়া তীরের মুখে/মারিল তীর আমার বুকে/দেহ থুইয়া প্রাণটা লইয়া যায়/আমার অন্তরায়, আমার কলিজায়/ আমার অন্তরায়, আমার কলিজায়…।হ্যাঁ আপা, দেশের মানুষের কলিজা এখন তীর মাখানো বিষের যন্ত্রণায় অস্থির। তাদের দেহ আছে। কিন্তু সেই দেহে প্রাণ নেই। রাজনীতি তাদের নিঃস্ব করে গেছে। যাকে বিশ্বাস করেছে সেই বিষ মাখানো তীর মেরেছে জনতাকে লক্ষ্য করে। এখন মানুষ কাউকে বিশ্বাস করতেও ভয় পায়। তাই তারা ক্ষুব্ধ, বিক্ষুব্ধ। দেশের মালিক যাদের বলা হয় সেই জনতাকে পিষ্ট করতে আপনি যেমন ছাড়েননি আপা, অন্যরাও একটু হলেও এ দোষে দোষি। তাই তো কেউ কেউ বলছে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী দলগুলো এগিয়ে যাবে। কারণ তাদের সঙ্গে যাবে বৈষম্যবিরোধীরা। এমনটা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তারপরও বলবো রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।আপা, ভালো থাকুন। দূর-দূরান্তে আপনার অতিশয় পাগল ভক্তদের জন্য দোয়া করবেন। কারণ তারা কখন কি করে বসে তা বুঝা মুশকিল। চারদিক খেয়াল করে চলবেন। হিসাব করে, মেপে মেপে কথা বলবেন। নিশ্চয় আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র- জনতার চোখ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত