বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

দুষ্ট বালকের মেঘ বালিকার প্রেমে পড়া

আপডেট:

আরিফ ভুঞা
রাজনীতিক কর্মী

আমার বুলবুলি… Zamir Uddin Baig জমির_,আমার মামা.. Shahriar Ahmed রঞ্জু মামা_,আমার ডার্লিং Atiqur Rahaman Shibly শিবলী_,আমার পরানের চুক্কুনী ভাইছা Faruk Ahmed .ফারুক, ফারুক আর আমাদের মাঝে নেই__,
দোয়া করি অহর্নিশি….. আল্লাহ্ যেন বন্ধুকে বেহেশতে নসীব করেন____।ফেনী পাইলট হাই স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন___,তখনো আমরা ফাউন্টেন পেনে কালি ভরে লিখতাম।কলমের বর্ননা এখানে দেওয়ার দরকার নেই সম্ভবত।আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন শ্রদ্ধেয় রায় মোহন স্যার,কলমের মাথার মেটালের অংশটা বেঞ্চে ঘঁষে গরম করে রঞ্জু মামা আমার ঘাড়ের কচি চামড়ায় লাগিয়ে দিলে ছ্যাঁৎ করে সেই জায়গায় ফোস্কা পড়ে যায়।হঠাৎ লাগানোয় আমিও হঠাৎই চিৎকার দিয়ে উঠায় স্যার গিয়ে আমার ঘাড়ের জায়গায়টা দেখে মামার পিঠে দাড়াম দাড়াম করে কয়েকটা কিল দিয়ে বসেন__,
কিল দেয়ার কারন… স্যার বেত ব্যবহার করতেননা_তারপর আমাকে ছুটি দিয়ে বলেন___,
বাড়িতে গিয়ে এন্টিসেপটিক লাগিয়ে রেষ্টে থাকিস___।
আমি ছুটি পেয়ে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময়ে_,
মামার জন্য মনটা ভীষন বেদনাতুর হয়ে গিয়েছিলো__।
স্কুল থেকে বেরিয়ে আমি দীঘির পাড়ে গিয়ে টাউট বাটপারদের মানুষ ঠকানোর বাটপারী দেখছিলাম আর খেয়াল রাখছিলাম স্কুলের পেছনের গলির দিকে___,
যেখান দিয়ে আমরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতাম।
আমি নিশ্চিত ছিলাম স্যারের ক্লাস শেষ হলে মামা বেরিয়ে আসবেন আমাকে খুঁজতে__, হলোও তাই।
গলির মুখে দেখলাম মামা বেরিয়ে আসছে…তার পিছনে চুক্কুনি ভাইছা আমি এগিয়ে গিয়ে ওনাদের সম্ভাষণ জানালাম_।প্রথমে স্টেশনের দোতলার ক্যাফেটেরিয়ায় কাটলেট খেয়ে বরান্দায় গিয়ে বসলাম__,
বারান্দায় বসে..আয়েশ করে “ক্যাপেসটেন সিগারেট” ফুঁকলাম (তখন আমরা টুকটাক সিগারেট ফুঁকতাম )।
টিফিন আওয়ার হলে বুলবুলি আর ডার্লিংকে খুঁজতে গিয়ে স্কুলেতো পেলামই না____,
বরং সারা শহরময় গরু খোঁজা করেও পেলাম না___।হাতে তখন অফুরান সময় তাই সরকারী গার্লস স্কুল ছুটির অপেক্ষা করছিলাম এবং টাইমিং মিলিয়ে চলে গেলাম আমার বাড়ির সামনের ফেনী পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটে__সেখানে গিয়ে শিক্ষক কোয়াটারের পিছনের আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং এর চার তলায় উঠে… সামনের বিল্ডিং এর চারতলার বাসিন্দা,
সেলিম প্রফেসরের কলো কইন্যার সাথে…. ইশারায় টাংকি মারতে মারতে বেলা বয়ে গেলো সেখান থেকে বেরিয়ে মামাদের বিদায় দিয়ে
আমি শান্তশিষ্ট ভদ্র বালকের মতো ঘরে চলে গেলাম।
সেলিম প্রফেসরের কালো কইন্যাকে আমি “ব্লাকবার্ড” ডাকতাম_সে যে আমাদের সমবয়সী ক্লাসমেট ছিলো তা মামাকে জানাইনি কারন মামা তলে তলে নিজে প্রেম করলেও আমার বেলায় হুজুরীপনা করতেন_____।নোট নেয়ার উছিলা করে আমাদের বাড়িতে আমার বেডরুম পর্যন্ত অবাধে যাওয়া-আসা ছিলো কালো- মিষ্টি কইন্যা.. “ব্লাকবার্ড” এর___,
আমি স্কলার ছাত্র হিসেবে অনেকেই আসতো পড়া বুঝতে…….ওরা আসলে আব্বা-আম্মাও বেশ খুশি হতেন____আর “ব্লাকবার্ড” সেই সুযোগটাই নিতেন।
আমারও সুশ্রী চেহারার যাদুকরী কন্ঠের মিষ্টি কালো কইন্যাটিকে ভালো লাগতো__,
তাই না করতাম না_________।
আমার সাথে যে কালো মায়াবী মেয়েটির মিষ্টি সম্পর্ক ছিলো___,সেটাও মামাকে জানাইনি কখনো……….আজ হয়তো জানবে। “ব্লাকবার্ড” এর সাথে মিষ্টি সম্পর্কের বিষয়টি, আরেকদিন বলবো______মনে হতো…. আমার বন্ধুদেরকে আমার আব্বা-আম্মা আমার চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন __,
সেই হিসেবেই হয়তো…আমার বন্ধুদের সাথে আমাদের পারস্পরিক পারিবারের একটা হৃদ্রতাপুর্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো_____।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত