কোনো আত্মীয় কিংবা বন্ধুর পক্ষ থেকে পাঠানো হয় একটি ওটিপি কোড। সঙ্গে দেওয়া হয় বার্তা, ‘ভুল করে একটা কোড পাঠিয়ে ফেলেছি তোমার নম্বরে। দয়া করে এটা ফরোয়ার্ড করো।’ আর এই ফাঁদে পা দিলেই শেষ! সঙ্গে সঙ্গে ওই ইউজারের হোয়াটসঅ্যাপের পুরো দখলটাই চলে যাবে হ্যাকারদের হাতে। মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ-নগদ) ব্যবহার করে প্রতারণা নতুন নয়। বর্তমানে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইমেইল ব্যবহার ও হ্যাক করে প্রতারণা।স্থানীয় সাংবাদিক মজুমদার বলেন, ‘হাসিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ঢাকার গুলশান থানার ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার ফোন থেকে একটি মেসেজ আমার নম্বরে এসেছে। সেটা কেন এল? কিছু তথ্য দিন। আপনার কাছে আমি একটা মেসেস দিচ্ছি তা একসেপ্ট করুন, তাহলে আর আসবে না। মেসেজটি একসেপ্ট করার সঙ্গে সঙ্গে হোয়টসঅ্যাপ তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এভাবে ফোন হ্যাক করে তথ্য চুরি করে নিয়েছে। আমার মোবাইলে থাকা সব নম্বরে মেসেজ করে টাকা চাওয়া হয়েছে।’ফেনী শাহীন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, ‘আমার কাছে এক ব্যক্তি থানার ওসি পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কল দিয়ে একটি লিংকে জলদি প্রবেশ করতে বলেন। লিংক আসার পর সেটিতে ক্লিক করতেই আমার হোয়াটসঅ্যাপের নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে চলে যায়। এরপর আমার সঙ্গে যারা হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত ছিলেন তাদের কাছে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা চাওয়া হয়।’একই ঘটনার শিকার হন সাংবাদিক এনামুল হক পাটোয়ারী। এ ঘটনার পর তিনি ‘আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটা হ্যাক হয়েছে, দয়া করে কেউ লেনদেন করবেন না’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন।ফেনী মডেল থানা সূত্র জানায়, প্রায়ই সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রতারকরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক পাঠায়। সেটিতে ক্লিক করলেই তাদের অ্যাকাউন্ট চক্রটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর তারা ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের পরিচিতদের কাছে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে একটি বার্তা দিয়ে টাকা চায়।পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়া থেকে ব্যবহারকারীদের নাম ও ফোন নম্বর জোগাড় করছে সাইবার অপরাধীরা। স্যোশাল মিডিয়া থেকে তাদের পরিচিতি ও বন্ধুদের নামও জোগাড় করে তারা। এরপর বন্ধুর নাম করে মেসেজ করা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। ব্যবহারকারী তার বন্ধুর অন্য নম্বর মনে করে চ্যাট করা শুরু করতেই কোনো শুভেচ্ছার মেসেজ বা অন্য মেসেজের সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্ক পাঠিয়ে ক্লিক করতে বলছে সাইবার অপরাধীরা। তিনি বন্ধু বা পরিচিত মেসেজ মনে করেই বিশ্বাস করে ক্লিক করেন লিংকে। ক্লিক করার পরই ব্যবহারকারী দেখছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ আর কোনো কাজ করছে না। তিনি কিছু দেখতেও পারছেন না। এই পদ্ধতিতেই হ্যাক হয়ে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এরপর সেই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে অন্যদের কাছে।ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ‘আমার ফোন নম্বর ক্লোন করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েকজনের কাছে টাকা দাবি করে প্রতারকচক্র। বিষয়টি দুজন আমাকে জানালে আমি বিভিন্ন গ্রুপে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করে সবাইকে সতর্ক করি।’ তবে এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কারও মোবাইল হ্যাক হলে বা কেউ প্রতারণার শিকার হলে থানায় অভিযোগ করতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে সচেতন হতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া লিংক এড়িয়ে চলতে হবে।’

