শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ময়লার বাণিজ্য বিএনপি নেতার দখলে

আপডেট:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান কাজ ময়লা ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এজন্য নগরবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে চসিক। তারপরও ময়লা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। যারা নগরবাসীর কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ময়লা সংগ্রহ করবে। প্রাথমিকভাবে ২৪ ওয়ার্ডে দায়িত্ব পেয়েছে ২৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা।যদিও চসিকের যুক্তি, ঘর থেকে ময়লা সংগ্রহ তাদের দায়িত্ব নয়। তারা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ময়লা সংগ্রহ করবে। অথচ ঘর থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য প্রায় দুই হাজার লোক নিয়োগ দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। এখন আবার নতুন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া মানে নগরবাসীকে ময়লার জন্য করের টাকার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে টাকা দিতে হবে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও তাদের মালিকানা জানা গেছে, সম্প্রতি ৪১টি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ১৯১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কাজ পাওয়া ১৬টি প্রতিষ্ঠানের নামও জানা গেছে।নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছে মেসার্স মাতৃভূমি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ। ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছে এসআরএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী সাকি। ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন নাবিলের প্রতিষ্ঠান নাবিল এন্টারপ্রাইজ। ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন মেসার্স রিমন কনস্ট্রাকশনের মালিক মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এন মো. রিমন। ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন অ্যাকুয়া রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী রুদ্র।১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন মেসার্স মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন, ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডের কাজ পেয়েছেন নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ খান, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন গ্রিন এন্টারপ্রাইজের মালিক যুবদল নেতা মো. ইমতিয়াজুর রহমান, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন বিন ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজের মালিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক ফারহান ফুয়াদ, ৩৭ নম্বর উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে কাজ পেয়েছেন মেসার্স এস এ ট্রেডার্সের মালিক সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা শাহিনূর ইসলাম। দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া নেই পর্যাপ্ত জনবল, রিকশা-ভ্যান, হাতগাড়ি, ইঞ্জিন ট্রলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। অথচ বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা ব্যবসা করবে দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত