বেলা সাড়ে ১১টা। গোপালগঞ্জ লাগোয়া গ্রামের একটি বাড়ির সদর দরজায় চার যুবকের আড্ডা। গল্পের বিষয় জেলায় চলমান কারফিউ। কাছে গিয়ে জানা যায়, তাদের ভয়-আতঙ্কের কথাও। আড্ডারত যুবকরা জানান, বাড়িতে একজন পুরুষও রাতে থাকেন না। তাদের দাবি, কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও পুলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হয়। ফোনে নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, এনসিপি’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও সহিংসতা চালানো হয়। এসব ঘটনার পর গোপালগঞ্জে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।উল্লেখ্য, গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’কে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪জন কর্মী-সমর্থক নিহত হন। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক আহত হন। এ ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন বিকালে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এদিন রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি করা করে। ওই কারফিউ পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ২২ ঘণ্টা বলবৎ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে । তবে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এম. রকিবুল হাসান বলেন, অবশ্যই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জেলা প্রশাসক সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করেছেন। গোপালগঞ্জবাসী ঝুঁকিমুক্ত হলে নিশ্চয়ই কারফিউ তুলে নেবেন।

