বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীতে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ সেতু রক্ষা নামে জিও ব্যাগ

আপডেট:

স্টাফ রিপোর্টর :

গতকাল সোমবার ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নবাবপুরে বালু উত্তোলন কে কেন্দ্র করে বিএনপি দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয় সোনাগাজী উপজেলা টিএনও রিগ্যান চাকমা দুই দলকে নিবৃত্ত করে। বালু মহল নিয়ে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে বলে স্থানীয় জনগন আশংকা করছে।ঘটনার সুত্র জানা যায় কালিদাস পাহালিয়া নদীর সোনাগাজী অংশে বালু উত্তোলনের ফলে নবাবপুরের নদী সংলগ্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে নবাবপুর এলাকাবাসিগতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) রোমেন শর্মা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আহসান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিগ্যান চাকমা। অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা।পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্থানীয়দের বাক-বিতণ্ডা ও চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
জানা গেছে, কালিদাস পাহালিয়া নদীর উপর নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আহম্মদ সেতুর গার্ডার ধসে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিতে রয়েছে। সেতু রক্ষার জন্য নদী সরাসরি করে গার্ডারের স্থানে জিও ব্যাগ বসাতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কাজের সুবিধার্থে নদীর জেগে ওঠা চরের অংশ খনন করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু জেগে ওঠা চর না কেটে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বানিজ্যিক কাজে বিক্রির অভিযোগে এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ।স্থানীয়দের পক্ষে ২৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নবাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ভূঞা।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে বাক-বিতণ্ডায় জড়ায় দুটি পক্ষ। এতে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা চেয়ারম্যান জহিরকে উদ্দেশ্য করে “ফ্যাসিস্টের দোসর, ভূয়া-ভূয়া”, “বালু উত্তোলন বন্ধ কর”, “সব শালাররা বাটপার, আর্মি হবে ঠিকাদার” ইত্যাদি শ্লোগান দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবাইকে নিবারণ করেন।অভিযোগকারি জহির উদ্দিন বলেন, নদীর মূল অংশে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বানিজ্যিক কাজে বিক্রি করছেন নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম ও ফরহাদনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন বাচ্চু। এখানকার বালু ব্যবহার করে প্রবাসি সালাউদ্দিন ও মাঈন উদ্দিনসহ আশপাশের অনেকের পুকুর, ডোবা, বাড়ীর আঙ্গিনা এবং নিচু জমি ভরাট করেছেন। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করছেন এই দুই চেয়ারম্যান।
সাইদুর রহমান নামে এক যুবক বলেন, “নদী সোজা করার নামে যেভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, এতে দু’পাশের রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর ও সেতু নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। আতঙ্কে আছে দুপাড়ের বাসিন্দারা। তাই সেতু রক্ষার কাজ সেনাবাহিনীকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।নবাবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল আলম বলেন, “সেতু রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৩৪ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিলেও নদী ড্রেজিংয়ের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি।”তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী বালু উত্তোলন করে নিদিষ্ট স্থানে ডাম্পিং করছেন। বানিজ্যিক কাজে এক ফিটও বিক্রি করা হয়নি। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি পক্ষ অভিযোগ দিয়েছে।ফরহাদনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, “আমি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, বোট ও ড্রেজার ভাড়া দিয়েছি। বেচা-বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানি না।”
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) রোমেন শর্মা বলেন, “নদী সোজাকরণ ও জিও ব্যাগ ভরাটের জন্য বালু তোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত