রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ইমাম মাহাদী দাবিদার নুরাল পাগলের কবর ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার জুম্মার দিন গোয়ালন্দ উপজেলা আনসার ক্লাব চত্বরে এলাকার ধর্মপ্রাণ জনতা একত্রিত হয় এবং পরে নুরাল পাগলের আস্তানায় হামলা চালায়।সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ও ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় মাজারে। নুরাল পাগলের অনুসারী ও উত্তেজিত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ উপস্থিত হন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। বিকেল ৪টার দিকে উত্তেজিত জনতা আরও জড়ো হলে প্রশাসন সরে যেতে বাধ্য হয়। পরে জনতা নুরাল পাগলের বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। নুরাল পাগলের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে মিছিলের মাধ্যমে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ ঘটনায় রাজবাড়ী, বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলায় তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে নুরাল পাগলের পরিবারের পক্ষে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছিল।নুরাল পাগলের মৃত্যু (২৩ আগস্ট) পর তার পরিবার তাকে বাড়ির সামনের অংশে দুইতলা সমান (প্রায় ১২ ফুট উঁচু) কাঠামোর ভেতরে কবরস্থ করেছিলেন। কবরটি কাবা শরীফের আদলে রং করা হয়েছিল এবং “হযরত ইমাম মাহদী (আ.) দরবার শরীফ” লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছিল। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এতে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।গোয়ালন্দ উপজেলার ইমাম পরিষদ ও তৌহিদী জনতা ২৬ আগস্ট থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। কবরের রঙ পরিবর্তন, ব্যানার অপসারণ এবং কবরের উচ্চতা কমানোর জন্য তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রথম দুটি দাবি নুরাল পাগলের পরিবার মেনে নিয়েছিল, তবে উচ্চতা কমানোর বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নেওয়ার পর তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুল রহমান বলেন, “এ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনতা আমার গাড়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পরে নুরাল পাগলের আস্তানায় হামলা চালিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
নুরা পাগলার লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ি ভাঙচুর
আপডেট:

