বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

আজদ মেডিকেলর ভিত্তিহীন অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব: মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ী পুলিন কুমার দেবনাথকে হেয় করার অপচেষ্টা”

আপডেট:

ফেনী জেলা কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতিকে দখলে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। সেই অপচেষ্টা বলির পাঠা হতে হলো মুক্তিযোদ্ধা পুলিন কুমার দেবনাথ। যারা অভিযোগ করছে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে এরি মধ্য ওষুধ ব্যবসায়াইদের মধ্যে ক্ষোপ বিরাজ করছে।
সর্ষের মধ্যে ভূত: নির্বাচন বিহীন সমিতি, প্রমাণহীন অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা পুলিন কুমার দেবনাথকে হেয় করার অপচেষ্টাবাংলার প্রবাদ—“সর্ষের মধ্যে ভূত”। এর অর্থ, যেটি রক্ষক হওয়ার কথা সেটিই যদি ভক্ষকে পরিণত হয়, তবে সর্বনাশ অনিবার্য। ফেনী জেলা কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রবাদ যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে।সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা পুলিন কুমার দেবনাথ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, তার পদত্যাগকে ঘিরে সমিতির ভেতরে-বাইরে এক শ্রেণির লোক নকল ঔষধ বিক্রি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছড়িয়ে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। অথচ এই অভিযোগের পক্ষে আজও কোনো প্রমাণ হাজির করা যায়নি।নির্বাচনহীন নেতৃত্ব: তিন দশকের একচেটিয়া ক্ষমতা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সমিতি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনহীনভাবে একই নেতৃত্বের অধীনে চলছে। সভাপতি প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে আসীন। প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি আদৌ নিয়মতান্ত্রিক কমিটি, নাকি নিজের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে কর্তৃত্ব কায়েমের একটি কৌশল?দীর্ঘদিনের এই একচেটিয়া নেতৃত্বই কি এখন সমিতিকে রক্ষকের বদলে ভক্ষকের ভূমিকায় দাঁড় করিয়েছে?প্রমাণহীন অভিযোগ: আজাদ মেডিকেল হলের অভিযোগ
নকল ঔষধ বিক্রির অভিযোগটি এসেছে আজাদ মেডিকেল হল-এর পক্ষ থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই অভিযোগের ভিত্তি কোথায়?মিন্টু মেডিকেল হলে নকল ঔষধ বিক্রির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেখানে প্রশাসন কখনো অভিযান পরিচালনা করে আজ পর্যন্ত কোনো নকল ঔষধ পায়নি। তদুপরি আজাদ মেডিকেল হলের অভিযোগকারী পক্ষও সমিতির কাছে কোন ধরনের ঔষধই দেখাতে পারেনি।তাহলে এই অভিযোগ কিসের ভিত্তিতে? উত্তর স্পষ্ট—এটি কোনো সৎ প্রচেষ্টা নয়, বরং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এক স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা বহুদিন ধরে তাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
ইনসুলিনের ক্র‍য় নিয়ে জটিলতা: কর্তৃত্বের অপব্যবহাররাজু নামে এক রোগীর ইনসুলিন ক্র‍য় ঘটনায় জটিলতা তৈরি হলে, প্রকৃত সত্য গোপন করতে দায় চাপানো হয় অন্য দোকানের ওপর। ঐ দোকানকে জরিমানা করা হয় এবং প্রায় ১৫ দিন ধরে একঘরে রাখা হয়। এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, সমিতির ভেতরে প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,
স্থানীয় ১৮ জন ব্যবসায়ী মিলে একটি ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি পরিচালনা করছেন। এর ক্যাশিয়ার বাপ্পি মেডিকেল হলের মালিক রাজ্যেশ্বর নাথ। অভিযোগ রয়েছে—মেয়াদান্তে টাকা বন্টনে তিনি গড়িমসি করছেন। আশ্চর্যের বিষয়, এই বিরোধের শালিশের দায়িত্ব নিয়েছেন কেমিস্ট সমিতির সভাপতির বড় ভাই জিয়া উদ্দিন মিস্টার। তিনি নিজে দায়িত্বে একাধিক বার সময় নিয়ে ও এখন পর্যন্ত টাকা বন্টনে সুরাহা করতে পারেন নি। পুলিন কুমার দেবনাথ নিজেও এই কল্যাণ সমিতির ভুক্তভোগী সদস্য, অথচ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেমিস্ট সমিতির সঙ্গে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
সন্তানের বক্তব্য ও জিডিপুলিন কুমার দেবনাথের ছেলে কান্তি দেবনাথ অভিযোগগুলিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন—সমিতির সব হিসাব কম্পিউটারাইজড, প্রতিটি লেনদেনের রশিদ দেওয়া হয়। অফিস সহকারী নিয়োগ আছে প্রায় ৪ বছর ধরে। ভর্তি ফি, সার্টিফিকেট উত্তোলন থেকে শুরু করে সব লেনদেন নির্দিষ্ট ফি-এর মাধ্যমে ব্যাংকে (ইউনিয়ন ব্যাংক) জমা হয়। সুতরাং আর্থিক অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।তিনি আরও যোগ করেন, সমিতির যেকোনো সিদ্ধান্ত কার্যকরী পরিষদের বৈঠকে এজেন্ডা আকারে পাশ হয়। এককভাবে কারো এখতিয়ার নেই। বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে তিনি ফেনী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।বিশ্লেষণ: রক্ষক নাকি ভক্ষক?পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়অভিযোগকারী আজাদ মেডিকেল হল কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।প্রশাসন কোনো নকল ঔষধ উদ্ধার করেনি।আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিচক একটি দুস্ট চক্রের কাজ।দীর্ঘদিনের নির্বাচনহীন নেতৃত্ব সমিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।এসব থেকে পরিষ্কার—এটি মূলত একটি কর্তৃত্ববাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে হেয় করা।ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ফেনীর ব্যবসায়ীরা মনে করেন—পুলিন কুমার দেবনাথ একজন মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাকে হেয় করা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, এটি গোটা ব্যবসায়ী সমাজের মর্যাদার ওপর আঘাত।তারা গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানিয়েছেন—সত্য যাচাই ছাড়া যেন কোনো সংবাদ প্রকাশ না হয়। কারণ প্রমাণহীন অভিযোগ ও গুজব সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং যে কারো সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্মান নষ্ট করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত