শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

তারেক রহমান ফিরছেন ২৭ নভেম্বরে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

আপডেট:

নিরাপত্তা প্রস্তুতি: বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও অস্ত্রের আবেদন
তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে। একটি তার নিজ ব্যবহারের জন্য, অন্যটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জুনে প্রথম বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়, আর এই অক্টোবরের শুরুতে আরেকটি গাড়ি কেনার অনুমতি মেলে। দলীয় সূত্র বলছে, জাপান থেকে গাড়ি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতির জন্যও বিএনপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। এতে একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে। যদিও এখনো অনুমোদন মেলেনি, তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এসব উদ্যোগে সরকারের সহায়তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতারা।রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নিরাপত্তাহীনতা
শুধু পার্শ্ববর্তী দেশের ষড়যন্ত্রই নয়, পতিত আওয়ামী লীগসহ দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে। দলের শীর্ষনেতারা তাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এ কারণেই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিতের আগে তার দেশে ফেরায় অধিকাংশ শীর্ষ নেতারই মত ছিল না। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং রক্তক্ষয়ী।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া এক অস্থির রাজনৈতিক ভূখণ্ড, যেখানে জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ড বা হত্যাচেষ্টার ঘটনা বারবার ঘটেছে। ১৯৪৮ সালে ভারতে মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী, রাজিব গান্ধী, পাকিস্তানে লিয়াকত আলী খান, বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ড, ইমরান খানকে হত্যাচেষ্টা, নেপালে রাজা বীরেন্দ্র, শ্রীলঙ্কায় সলোমন বন্দরনায়েক, রণসিংহে প্রেমদাসা হত্যাকাণ্ড, আফগানিস্তানে মোহাম্মাদ দাউদ খান, নুর মোহাম্মদ তারাকি, মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ, বুরহানুদ্দিন রাব্বানি হত্যাকাণ্ড—এই তালিকা দীর্ঘ।বাংলাদেশেও শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভুটান ও মালদ্বীপ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি সব দেশই তাদের জাতীয় নেতাদের হারিয়েছে ঘাতকদের গুলিতে, নাহয় আত্মঘাতী বোমার আঘাতে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পরিস্থিতি ও সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের রোশানলে থাকা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারেক রহমান যে দৃঢ়তা ও সহনশীলতা দেখাচ্ছেন, তাতে আগামী দিনে দেশের জাতীয় নেতা হিসেবে তার আবির্ভূত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিএনপি বিমুখ বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী মাসে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্র ও ঘনিষ্ঠ পর্যায় থেকে জানা গেছে, তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে তার ফেরা শুধু বিএনপির রাজনীতিতেই নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ১৪ মাস পার হলেও তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতুহল ছিল। তার ফিরে আসার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছিল তার নিরাপত্তার বিষয়টি। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকাতে একটি পার্শ্ববর্তী দেশ মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা যায়।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ২৪ অক্টোবর গণমাধ্যমে বলেছেন,

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত