শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় বিলম্ব হবে

আপডেট:

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটময় পরিস্থিতি কাটছেই না।শনিবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার ভোরের দিকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে’ সেই বিমান আসতে বিলম্ব হওয়ার কথা জানায় বিএনপি। এরপর গতকাল শুক্রবার বলা হয়, কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আর আসছে না। তার বদলে কাতারের আমির জার্মানি থেকে ভাড়া করে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবেন। সেই অ্যাম্বুলেন্স কবে বাংলাদেশে আসবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।ব্রিফিংয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ওই সময় (শুক্রবার) এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে আসতে পারেনি, এটাও যেমন সত্য কথা, ওই সময়ে জরুরিভাবে মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, এ মুহূর্তে উনার ফ্লাই করা ঠিক হবে না। সেজন্য উনাকে বিদেশ নেওয়ার যে বিষয়টি, সেটি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো শারীরিক অবস্থাই বলে দেবে তাকে কখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যাবে অথবা নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। কিন্তু প্রস্তুত থাকলেও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা প্রাধান্য পাচ্ছে। আমাদের মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে আসা চিকিৎসকরা উনার শারীরিক অবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।অধ্যাপক জাহিদ বলেন, আমরা মনে করি, দেশের সব মানুষ উনার সুস্থতা চায়, চিকিৎসকরা চায়, দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, সব মতাদর্শের মানুষই চায়। যেহেতু উনার স্বাস্থ্য আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, সেজন্য আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দলও সে অনুযায়ী অধিকার দিচ্ছে।
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, যখনই সক্ষম হবেন, তখনই ফ্লাই করবেন, বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। যখনই বিদেশ নেওয়ার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড যথোপযুক্ত মনে করবে, তখনই তাকে বিদেশ নেওয়া হবে। কারণ মনে রাখতে হবে, ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা যখন বিমানে ফ্লাই করবেন, তখন যে অতি উচ্চতায় মানুষের শারীরিক যে পরিবর্তন হয়, সেটির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো একজন অসুস্থ মানুষের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত