শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য ব্যাবসায়ীদের প্রতিরোধ

আপডেট:

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:রাজধানীর প্রধান পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে আজ রচিত হলো এক অভূতপূর্ব প্রতিরোধের ইতিহাস। দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপি ও যুবদলের নাম ভাঙিয়ে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছিল। প্রতিদিনের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা উপার্জনের বড় একটি অংশ চলে যেত এই হায়েনাদের পকেটে। কিন্তু আজ কারওয়ান বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রমাণ করে দিলেন—জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো অপশক্তিই টিকে থাকতে পারে না।ঘটনার সূত্রপাত:দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আজ সকালে কারওয়ান বাজারের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের ডাক দেন। তাদের দাবি ছিল একটাই—”ব্যবসা করতে চাই শান্তিতে, চাঁদাবাজমুক্ত বাজারে।” কোনো উস্কানি ছাড়াই ব্যবসায়ীরা যখন প্লাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছিলেন, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় সেই চিহ্নিত চাঁদাবাজ গোষ্ঠী।হামলা ও পাল্টা প্রতিরোধ:প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের মাঝপথেই বিএনপি ও যুবদল নামধারী ঐ চাঁদাবাজরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিবাদ স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু এবার পাশা উল্টে যায়। ব্যবসায়ীরা ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে উল্টো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।”চাঁদাবাজ যেখানে, প্যাদানি হবে সেইখানে”—এই স্লোগান তুলে ব্যবসায়ীরা যখন পাল্টা ধাওয়া দেন, তখন লাঠিয়াল বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পাল্টে যায় পুরো বাজারের চিত্র। ব্যবসায়ীদের এই বীরত্বপূর্ণ অবস্থানের সামনে টিকতে না পেরে এলাকা ছাড়ে চিহ্নিত ঐ সন্ত্রাসীরা।ব্যবসায়ীদের বক্তব্য:উপস্থিত ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোনো দলের রাজনীতি বুঝি না, আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। এতদিন মুখ বুজে সহ্য করেছি, আর নয়। এখন থেকে বাজারে কোনো চাঁদাবাজকে দেখা গেলে এলাকা থেকেই গণধোলাই দিয়ে বিদায় করা হবে।গতকালের এই ঘটনা সারা দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে চায়, তাদের জন্য কারওয়ান বাজার আজ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জুলুমের রাজত্ব আর চলবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত