শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

পোপ ও ইরান ইস্যুতে আমেরিকা-ইতালি কূটনৈতিক টানাপোড়েন মেলোনির ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

আপডেট:

​ওয়াশিংটন ও রোম: একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনির সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাথে তার আগের মতো সেই উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর নেই। মূলত ইরান সংকট এবং পোপের প্রতি মেলোনির সমর্থনকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মেলোনিকে “সাহসহীন” এবং “নেতিবাচক” বলে অভিহিত করেছেন। তার প্রধান অভিযোগ হলো, ইরান সংকটে আমেরিকার সামরিক কৌশলে ইতালি সরাসরি কোনো সহায়তা করছে না। ট্রাম্পের মতে:ইতালি হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল আমদানি করে।অথচ ওই অঞ্চলের সুরক্ষায় নিয়োজিত আমেরিকার সামরিক মিশনে দেশটি কোনো অবদান রাখছে না।এটিকে আমেরিকার নিরাপত্তার প্রতি “অকৃতজ্ঞতা” হিসেবে দেখছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট
​বিবাদটি তুঙ্গে পৌঁছায় পোপ লিও চতুর্দশের ওপর ট্রাম্পের করা কিছু অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের পর মেলোনি দৃঢ়ভাবে পোপের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।
​তবে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে ট্রাম্পের সুরকে “ইতালির সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
​ইতালি ও ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া
​ইতালির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাল্টা জবাব দিয়েছেনইতালি ও ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়াইতালির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইগনাজিও লা রুসা (সিনেট প্রেসিডেন্ট) ক্যাথলিক চার্চের সাথে ইতালির গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। পোপের অবমাননার পর মেলোনির নীরব থাকা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।অন্যদিকে, পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তিনি পোপের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের প্রশংসা করেছেন, যা উত্তপ্ত কূটনৈতিক আবহে জল ঢালার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের এই দুই ডানপন্থী নেতার মধ্যকার দূরত্ব আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে, বিশেষ করে ন্যাটো ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত