মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

প্রযুক্তি সংস্থা নয়, নিয়ম আমরাই তৈরি করি’শিশুদের নিরাপত্তায় ইউরোপের কঠোর বার্তা :প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন

আপডেট:

কোপেনহেগেন: বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে শিশুদের সুরক্ষা এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর (Big Tech) একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ‘ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলন অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন’-এ দেওয়া এক ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, শিশুরা কোনো ‘পণ্য’ নয় এবং তাদের শৈশব নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই।
​প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর প্রতি কঠোর অবস্থান।ভন ডার লেয়েন তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম এবং অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:”শিশুরা পণ্য নয়, এবং বিশ্বের কোনো প্রযুক্তি সংস্থাকেই তাদের সাথে এমন আচরণ করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। শিশুরা শিশুই—তাদের স্বপ্ন, কৌতূহল এবং স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে তাদের বেড়ে ওঠার অধিকার আছে।”অনেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ক্ষমতাকে ‘অদম্য’ মনে করলেও ভন ডার লেয়েন তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, সমাজকে ডিজিটাল আসক্তি এবং ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে রক্ষা করার সামর্থ্য ইউরোপের রয়েছ।প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বের তিনটি ভয়াবহ দিকের কথা উল্লেখ করেছেন যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
​ডিজিটাল আসক্তি সামাজিক মাধ্যমগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।চরমপন্থী বিষয়বস্ত শিশুরা ইন্টারনেটে ক্রমবর্ধমান হারে উগ্র বা চরমপন্থী কনটেন্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ।এআই-এর অপব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করা হচ্ছে, যা নৈতিকভাবে অপরাধ।ইউরোপের নিজস্ব নীতিমালা থাকা জরুরী। বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ম চালাবে—এমন ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ইউরোপ এখন নিজস্ব কঠোর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করছে। তাঁর মতে, “পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা ইউরোপের আছে। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ম তৈরি করি, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নয়।”এই সম্মেলনটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য একটি নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত হয়েছে। ভন ডার লেয়েনের এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসুত্র: আনসা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত