সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

ইতালির নির্বাচনে বাংলাদেশী রিতু মিয়ার সাহসী লড়াই”উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ”

আপডেট:

​ইতালির ভেনিস ও মেস্ত্রে শহরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মধ্য-বামপন্থী ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’ (PD) থেকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ইতালীয়-বাংলাদেশী তরুণী রিতু মিয়া। ভেনিসের প্রায় ২০,০০০ বাংলাদেশী প্রবাসী এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।গার্ডিয়ানে সাক্ষাৎকার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ রিতু মিয়ার সাহসী সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর ইতালির রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর থেকেই উগ্রপন্থীদের তীব্র বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন তিনি। তাকে এমনকি “উটে চড়ে নিজের দেশে ফিরে যাও”— এমন কটু কথাও শুনতে হয়েছে। কান্না চেপে রিতু মিয়া দৃঢ়তার সাথে জানান, বাংলাদেশীরা এখন আর অবহেলিত নয়, বরং তারা ভেনিসের অর্থনীতি ও উন্নয়নের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। ভোটের মাধ্যমেই তারা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।ডানপন্থীদের অপপ্রচার: বাংলাদেশীদের ভোট ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে যাওয়ার ভয়ে ডানপন্থী দল ‘লীগ’ (Lega) প্রচার শুরু করেছে যে, বামপন্থীরা বাংলাদেশীদের সুবিধা দিয়ে ভেনিসের “ইসলামীকরণ” করছে। এই নোংরা রাজনীতির বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল ‘ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি’ (FdI)-র আঞ্চলিক প্রধান রাফায়েলে স্পেরানজন বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশীরা বৈধভাবে কঠোর পরিশ্রম করে এবং ইতালির মাটিতে তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে।বামপন্থী নেতাদের দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্যানেল জয়ী হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চপেটাঘাত। ভেনিস হারানোর ভয়ে ডানপন্থীরা এতটাই কোণঠাসা যে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে মাত্র ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব সারতে হয়েছে।
​তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian) ও ইল ম্যানিফেস্টো (il manifesto) —

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত