রোম / ইতালি :আগামী ৪ বছরে চরম শ্রমিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশ ইতালি। অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় শিল্প মালিকদের মতে, এখনই যদি এই সংকট মোকাবিলায় সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।’ভেনেতো’ (Veneto) রাজ্যে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কেবল এই একটি অঞ্চলেই শ্রমিকের ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাক্ষে।অভিবাসন বিরোধিতার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বাস্তবমুখী নীতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিবাসন বিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য বা কড়াকড়ি আরোপ না করে, বরং বাস্তবসম্মত কৌশল অবলম্বন করা উচিত। ইতালির অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হলে বৈধভাবে আসা অভিবাসীদের ভাষা শিক্ষা এবং আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের (Technical Training) আওতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে এটি ইতালির উৎপাদন ও সেবা খাতকে আরও চাঙ্গা করবে।ইতালির জন্য ‘আদর্শ উৎস’ হতে পারে বাংলাদেশ। এই সংকটময় মুহূর্তে ইতালির জন্য শ্রমবাজারের একটি বড় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক তরুণ, শিক্ষিত এবং কর্মক্ষম যুবক রয়েছেন, যারা উপযুক্ত সুযোগের অভাবে বেকারত্ব কাটাচ্ছেন।ইতালির শ্রম ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের এই তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে পারে।সমাধানের পথ: পাইলট প্রকল্প ও যৌথ উদ্যোগ
ইতালির নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন।পাইলট প্রজেক্ট চালু: বাংলাদেশ থেকে শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের বাছাই করে একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্পের মাধ্যমে ইতালিতে আনা যেতে পারে।ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: ইতালিতে আসার আগেই বাংলাদেশে অথবা আসার পরপরই সরকারি উদ্যোগে তাদের ভাষা ও কাজের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া।মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ: ইতালির শ্রম, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উচিত এখনই এই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।সময় থাকতে কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে ইতালির শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিক সংকটে ইতালি’ অর্থনীতি বাঁচাতে রক্ষাকর্তা হতে পারে বাংলাদেশ “
আপডেট:

