রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি আরও বলেন, আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার যে পরিস্থিতি, তাতে অনেক সময় দিকবিদিকশূন্য হয়ে এবং আশপাশের হাতছানির কারণে আমাদের তরুণেরা বিদেশে পাড়ি জমায়। তারা যাওয়ার আগে ও পরে প্রতারিত হয়। এরপরও কোনো খরচ ছাড়াই রেমিট্যান্সের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা সরকারের হাতে আসে, তা অনেক মূল্যবান।বাংলাদেশের প্রথম অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও উৎসব ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’-এ জাতীয় বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আবির ফেরদৌস মুখরের ‘হাউ ডু ইউ ডু’ এবং আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা হয়েছে তুরস্কের পরিচালক আদার বারান ডেগারের ‘দ্য কোল্ড’।জাতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সৈয়দ সাহিল ও রাকায়েত রাব্বী নির্মিত ‘মাটি’ এবং তৃতীয় হয়েছে ইফফাত রওনাক প্রমির ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’। আন্তর্জাতিক বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইরানের পরিচালক মোসায়েব হানাইয়ের ‘ওভারলোড’ এবং তৃতীয় হয়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচালক রিকার্দো মুনোজ সিনিয়রের ‘অ্যান আইল্যান্ড ‘বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জিওসেপ্পে দি জিওভান্নি বলেন, “আমি প্রায়ই শুনি যে ইতালি যেতে ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার লাগে। কিন্তু আসলে কত লাগে জানেন? ইতালির ভিসার জন্য সর্বনিম্ন ৬১ আর সর্বোচ্চ ১০০ ডলার নেয়। তাহলে এই ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার কে নেয়? দুই পাড়ের মাঝখানের কিছু লোক। বাংলাদেশ ও ইতালির অপরাধী চক্র যারা মানুষের অভিবাসনের মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে শোষণ করে। আমরা এই চক্রগুলো ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু সেজন্য বাংলাদেশের সরকারের সহায়তা আমাদের দরকার। আবার এটাও বলতে চাই, লিবিয়া হয়ে নৌকায় করে যারা আমাদের আমাদের সৈকতে ভিড়বে, আমরা তাদের ফিরিয়ে দেবো। আমাদের আইন এখন এতটাই কঠিন। ”
চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, “শিল্প ও গল্প বলার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন নিয়ে আরও গভীর সামাজিক আলোচনা তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের উৎসব নতুন নির্মাতাদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। ”আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও জুরি বোর্ডের সদস্য রাহনুমা সালাম খান বলেন, “অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো জটিল মানবিক সংকটকে চলচ্চিত্র অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ” বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও উৎসব
আপডেট:

