বেনগাজি, লিবিয়া:সাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাগুলোর অনুসন্ধান, উদ্ধার ও আটক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নতুন মেরিটাইম উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০শে জুলাই লিবিয়ায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত নিকোলা অরল্যান্ডো নতুন এই কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।নতুন এই কেন্দ্রটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক মিশন ‘অপারেশন ইরিনি’-র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যার যৌথ অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে ইতালি ও মাল্টা। স্থানটি পূর্ব লিবিয়ার শক্তিশালী জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে অবস্থিত। কেন্দ্রটি মূলত পূর্ব লিবিয়া উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবাহী নৌকা শনাক্তকরণ, উদ্ধারকাজ ও অভিযান পরিচালনা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে। ইইউর বিশেষ মিশন ‘অপারেশন ইরিনি’ এবং ‘ইইউবিএএম লিবিয়া’ এই উদ্ধার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। এতে করে সমুদ্রসীমায় লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ উদ্ধার ও নজরদারি ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সমীকরণ: যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারকেই স্বীকৃতি দেয়, তবুও ভূমধ্যসাগরে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তারা দেশটির পূর্বাঞ্চলের অস্বীকৃত আঞ্চলিক কতৃপক্ষের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে চলেছে।এদিকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের মতে, লিবিয়ার সামুদ্রিক বা উপকূলীয় বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অর্থ হলো সাগরে ধরা পড়া অভিবাসীদের পুনরায় লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো।
মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন (pushback) এবং পরবর্তীতে লিবিয়ার বন্দিশালাগুলোতে অভিবাসীদের ওপর মারাত্মক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যাবে।
পূর্ব লিবিয়ায় ইইউর অর্থায়নে নতুন মেরিটাইম উদ্ধার কেন্দ্র চালু
আপডেট:

