মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

ইলভা কারখানার শ্রমিকদের প্রতিবাদ ও জেনোয়া বিমানবন্দর অবরোধ

আপডেট:

জেনোয়ার কর্নিগ্লিয়ানোর প্রাক্তন ইলভা (Ex-Ilva) কারখানার শ্রমিকরা আজ বিকেলে জেনোয়া বিমানবন্দরের বোর্ডিং এলাকা থেকে তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণার পর শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে জানানো হয়েছে যে আগামী ২৭শে অক্টোবর রোমের পালাজ্জো কিগিতে (Palazzo Chigi) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
​পরিস্থিতির পটভূমি ও শ্রমিক বিক্ষোভের কারণ
​ আজ সকালে জেনোয়ার কলম্বো বিমানবন্দরের বোর্ডিং এলাকায় প্রবেশ করে প্রাক্তন ইলভা শ্রমিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দর দখলের ঘোষণা দেন।​ছাঁটাই তহবিল সংক্রান্ত অসন্তোষ: কোম্পানি কর্তৃক নতুন করে শ্রমিক ছাঁটাই (CIGS/বিশেষ ছাঁটাই তহবিল) সংক্রান্ত ভাতার আবেদনের খবরের পর শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আশ্বাস পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ ছাঁটাই তহবিলে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। বর্তমানে এই তহবিলটি ২৮০ জন কর্মচারীর জন্য বহাল থাকবে এবং তা ৮৭০ জন পর্যন্ত বাড়ানো হবে না।
​শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আরমান্দো পালোম্বো (FIOM)শ্রমিকদের এক সভায় তিনি কমিশনারদের তীব্র সমালোচনা করেন।তিনি অভিযোগ করেন যে, কমিশনাররা বুধবার রোমে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে প্রিফেক্টের কাছে চিঠি পাঠান। কিন্তু শুক্রবার মধ্যরাতে রেজিস্টার্ড ইমেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিপরীত সিদ্ধান্ত জানিয়ে পুরো শহরকে উপহাস করা হয়েছে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, জেনোয়ার কারখানা সচল রাখতে অবিলম্বে কাঁচামাল (রোল/স্টীল কয়েল) পৌঁছাতে হবে এবং জেনোয়া বছরের পর বছর কোনো প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা করতে পারে না।​ নিকোলা অ্যাপিস (FIM CISL) তিনি জানান, প্রিফেকচারে আলোচনার পর জেনোয়া কারখানাকে সচল রাখতে ৩৫,০০০ টন কয়েলের অস্থায়ী সরবরাহের একটি আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।​কিন্তু শুক্রবার নতুন ছাঁটাই পরিকল্পনার ঘোষণায় অফিস কর্মীসহ সম্পূর্ণ বিভাগগুলো বন্ধ হওয়ার হুমকি দেখা দিয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, অফিস ও মূল বিভাগগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বাকি প্রক্রিয়াকরণ কাজও থমকে যাবে।শ্রমিকদের চাকরি ও কারখানার অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান। ফাবিও সেরাউডো বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি বক্তব্য শেষ করেন এবং জেনোয়ার শিল্প ভিত্তি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।আপাতত বিমানবন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও, শ্রমিক নেতারা কাঁচামালের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আগামী ২৭শে অক্টোবরের পালাজ্জো কিগির বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে প্রাক্তন ইলভা কারখানার পরবর্তী ভবিষ্যৎ।
তথ্য সুত্র : আনসা (ইতালি)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত