বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

ফেনীতে মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি “জিম্মি লাখো মানুষ””সেবার নামে প্রতারণা

আপডেট:

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী | বর্তমান সময়
​দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার এবং গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ফেনী। তবে এই জনপদে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এখন বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে। ফেনী শহরের পাশাপাশি মিরসরাই, গুনবতী, লাঙ্গলকোটসহ ফেনী জেলার ৬টি উপজেলার মানুষের প্রধান ভরসা ফেনী সদর। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পুরো জেলা এখন মানহীন ও অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সয়লাব হয়ে গেছে।দক্ষ লোকবল নেই, আছে দালালের দৌরাত্ম্য
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশতেই অণুজীব (Microbiology) বা জটিল প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য কোনো দক্ষ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তারা মূলত একটি শক্তিশালী সমিতির ছত্রছায়ায় জোটবদ্ধ হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এক শ্রেণির ‘দালাল’ ও ‘পড়িয়াদের’ মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে আসা অসহায় রোগীদের ভুল বুঝিয়ে এসব সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় না করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
​অভিযানের সুফল নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সম্প্রতি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ২টি হাসপাতাল ও ৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সচেতন মহলে এই অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোক দেখানো অভিযানে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও কিছুদিন পর ‘অনৈতিক লেনদেনের’ মাধ্যমে সেগুলো আবারও চালু হয়ে যায়। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হয়ে একই কায়দায় রোগীদের সাথে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
​ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা
​একজন ভুক্তভোগী জানান, ফেনীর একটি স্বনামধন্য সেন্টার থেকে করানো পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তিনি ঢাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। সেখানে দেখা যায় রিপোর্টগুলো ভুল ছিল। ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নিলে রোগীর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারতো।”ফেনীর অধিকাংশ ল্যাবের রিপোর্টের ওপর এখন আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। ভালো মানের মেশিন থাকলেও দক্ষ অপারেটরের অভাবে রিপোর্ট ভুল আসছে।” — জনৈক ভুক্তভোগী।
​সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা
​ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা ফেনী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর জোর দাবি জানিয়েছেন যেন:
​শুধুমাত্র অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়।প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে কি না তা যাচাই করা হয়।
​অনৈতিক লেনদেনের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।ফেনীর স্বাস্থ্যসেবা খাতকে দালালমুক্ত ও সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত