শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতা’তে অভিবাসীদের ঢল ৫০ জন নিহত ” ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট:

সমুদ্র থেকে জলোচ্ছ্বাসের পানি যেমন করে লোকলয়ে ঢোকে, ঠিক সে রকমই সমুদ্র থেকে অভিবাসীর ঢেউ আছড়ে পড়েছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতা’তে। এতে শুক্রবার দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরক্কো থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পর্যন্ত অভিবাসী সীমান্ত অতিক্রম করে সিউতায় প্রবেশ করেছেন। এতে স্থানীয় প্রশাসন কার্যত ভেঙে পড়ে এবং ইউরোপীয় ভূখণ্ডে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার সিউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এ ঘটনাকে ‘স্পেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন এবং মানবপাচারকারী চক্রকে এর জন্য দায়ী করেন। সানচেজ বলেন, পাচারকারীরা অসংখ্য তরুণকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর মুখে ফেলে সমুদ্রে কিংবা, এ ঘটনার মতো, স্পেনের সিউতা সীমান্তে। সাম্প্রতিক মৃত্যুর সংখ্যা আগের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সিউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসাস ভিভাস জানান, বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সিউতায় প্রবেশ করেছেন। এটি শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। তিনি পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অসহনীয় বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার বহু গুণ ছাড়িয়ে যায়। ফলে হাজারো মানুষ, যাদের মধ্যে অনেক অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে, তারা রাত কাটাতে বাধ্য হন পার্ক, ফুটপাত এবং অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে।সিউতায় স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি একে গুরুতর মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করেন। সীমান্তের ভিডিওতে দেখা যায়, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে। তবুও বহু অভিবাসী সীমান্তের বাধা এড়িয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যান। স্পেনের পক্ষেও সীমান্তে সেনাবাহিনীর যান মোতায়েন করা হয়। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খায়। পরে দেখা যায়, খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে শত শত অভিবাসী সীমান্ত ফটক ও বেড়ার ফাঁক দিয়ে আবার মরক্কোতে ফিরে যাচ্ছেন।এক তরুণ মরক্কান অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সত্যি বলতে, কেন এসেছিলাম সেটাও জানি না। এখন ফিরে যাচ্ছি। গতকাল দুপুরের পর থেকে কিছু খাইনি। সিউতা ও মেলিয়া স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। এগুলোই ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র স্থলসীমান্ত। সাধারণত অভিবাসীরা মরক্কোর ফনিদেক বা বেলিউনেচ এলাকা থেকে সাঁতরে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আবার অনেকে কাঁটাতারের উঁচু সীমান্তবেষ্টনী টপকে ঢোকার চেষ্টা করেন।স্পেনের কর্তৃপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক জন ঢলের পেছনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় ভূমিকা রেখেছে। ওই রায়ে বলা হয়, সিউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত