গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুটি সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশটিতে ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের একটি বহর ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে ইসলামাবাদ থেকে।সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান ও সেনা মোতায়েনের মূল লক্ষ্য-সৌদি আরব যদি কোনো হামলার শিকার হয়, তাহলে পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি সেনাদের সহায়তা করবে।প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনেই এই সামরিক সহায়তা। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ (এসডিএমএ)। এই চুক্তির আওতায়ই ইসলামাবাদ রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ঘটলে তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি চুক্তির মূল অংশ। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো গোপন রাখা হয়েছে।সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার নিচে আনা হয়েছে।কী কী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে পাকিস্তান?সূত্রগুলো জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে প্রায় ১৬টি বিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এসব বিমানের বেশির ভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।অন্য দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তিতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও ছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান উল্লেখ্য, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে পাকিস্তান। একদিকে সামরিক সহায়তা, অন্যদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ-দুই মেরুতে ভাসছে ইসলামাবাদ। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব-বিষয়টি নিয়েও সম্প্রতি উত্তেজনা বাড়ছে অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

