বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ইউরো উন্নত প্রতিরক্ষা চুক্তি

আপডেট:

রোম: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ইতালি সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এই সফরের মাধ্যমে দুই ইউরোপীয় দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন করে চাঙ্গা করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
​এই সফরের প্রধান প্রধান বিষয় ও সিদ্ধান্তসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো। ১০ বিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড বাণিজ্য: ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ১০ বিলিয়ন ইউরো স্পর্শ করেছে, যা তাদের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্কের বড় প্রমাণ।
​’ফ্রেম ইভো’ ফ্রিগেট ক্রয়: পর্তুগাল ইতালির বিখ্যাত জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফিনকানতিয়েরি (Fincantieri) থেকে তিনটি অত্যাধুনিক ‘ফ্রেম ইভো’ (FREMM EVO) ফ্রিগেট কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।​প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ: সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পাশাপাশি দুই দেশই প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
​২. বৈশ্বিক ও কৌশলগত সহযোগিতা
​গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত: ইউক্রেন সংকট মোকাবিলা, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক ‘ব্লু-ইকোনমি’ (Blue Economy) খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত পোষণ করেছেন। আফ্রিকার উন্নয়নে ইতালির ঘোষিত ‘মাত্তেই প্ল্যান’-এর আওতায় পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশ—যেমন অ্যাঙ্গোলা ও মোজাম্বিকে যৌথ প্রকল্প পরিচালনার বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
​৩. আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেলবন্ধন
​ভূমধ্যসাগরীয় জোটের নেতৃত্ব: আগামী বছর পর্তুগাল ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর জোটের সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পর্তুগালের সদস্যপদের বিষয়ে ইতালি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই চাঙ্গা করেনি, বরং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকা ভিত্তিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত