রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

আমেরিকা, রাশিয়া ও ইসরায়েলের বিরোধিতা জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হলেন ফলকার তুর্ক

আপডেট:

অস্ট্রিয়ার আইনজীবী তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন। শুরুতে ইউএনএইচসিআরে কাজ করেন। মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কঙ্গোতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জ্যেষ্ঠ পদে কাজ করেন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অধীনে স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেশন বিষয়ক সহকারী মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গুতেরেসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়।যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার পদে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার তুর্ক। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে তিনি আবার এ দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে এই পদে থাকা তুর্ক এখন টানা দুই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি হয়ে গেলেন। ১৯৯৩ সালে পদটি সৃষ্টির পর এমন নজির আর নেই।মানবাধিকার প্রধান হিসেবে তুর্ক গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সোচ্চার ছিলেন।সাধারণ পরিষদে গুতেরেসের প্রস্তাবে তুর্কের পক্ষে ১৪৪টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে যায় ১০টি ভোট। ১৩টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভোট স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাশিয়া চেয়েছিল তার মেয়াদ শুধু চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হোক। দুটো প্রস্তাবই খারিজ হয়ে যায়।তুর্কের সমালোচনায় বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস ৭ অক্টোবরের হামলাকে আড়াল করেছে, তহবিলের অপব্যবহার করেছে এবং নিরপেক্ষতা ত্যাগ করেছে। রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি চুমাকভ তাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাকে চরমপন্থী আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও এনেছে।গুতেরেসকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে ভোট আয়োজন করেছেন। নতুন মানবাধিকার প্রধান বাছাইয়ের কাজ তার উত্তরসূরির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একে জাতিসংঘের দুর্নীতি ও অদক্ষতার উদাহরণ বলেছে। ইসরায়েল একে নৈতিক ব্যর্থতা আখ্যা দিয়েছে।জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক অবশ্য বলেছেন, গুতেরেস নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন। সদস্য রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে স্বচ্ছভাবে তুর্ককে মনোনয়ন দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত