শেষ বাঁশি বাজার পরও মাঠ ছাড়তে পারছিলেন না মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে প্রায় বিশ মিনিট ধরে দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা উপভোগ করলেন এই মিশরীয় তারকা। নয় বছরের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তিতে আবেগ যেন তাকে ঘিরে ধরেছিল চারদিক থেকে।চারশোর বেশি ম্যাচ, আড়াই শতাধিক গোল আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত—সব মিলিয়ে লিভারপুলে সালাহর যাত্রা ছিল রূপকথার মতো। বিদায়ের প্রস্তুতি অনেকদিন ধরেই চলছিল, তবু তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন কিছুতেই এই শেষটাকে মেনে নিতে পারছেন না।শুধু সালাহ নন, বিদায় বলছেন আরেক কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টসনও। নয়টি গৌরবময় মৌসুম শেষে লিভারপুল ছাড়ছেন এই ডিফেন্ডার, যিনি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন।এই দুজনই ছিলেন লিভারপুলের স্বর্ণযুগের প্রতীক। তাদের হাত ধরেই বদলে গিয়েছিল ক্লাবটির ভাগ্য। সংশয় থেকে বিশ্বাস, হতাশা থেকে জাগরণ—সবকিছুর কেন্দ্রেই ছিলেন তারা।তবে নতুন নায়কদের জায়গা করে দিতে পুরোনো কিংবদন্তিদের সরে দাঁড়াতেই হয়। ফুটবলের নিয়ম এটাই। কিন্তু তাই বলে এই বিদায় যে কম কষ্টের হবে, তা নয়। সমর্থকদের কাছেও এটি এক আবেগঘন বিচ্ছেদ।এই আবেগময় দিনে বিশেষ সম্মান জানানো হয় সাবেক অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনকেও। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দেওয়ার সময় এমন বিদায় পাননি তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক ক্ষোভই মুছে গেছে। লিভারপুলের হয়ে ১২ বছরে ছয়টি শিরোপা জেতানো এই অধিনায়কের জন্য দর্শকদের করতালি ছিল আবেগে ভরা এক মুহূর্ত।ম্যাচটি অবশ্য খুব একটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল না। ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হওয়া এই লড়াই দুই দলের জন্যই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তবে খেলার মধ্যেও লিভারপুলের মৌসুমজুড়ে থাকা সমস্যাগুলো আবার স্পষ্ট হয়েছে—সুযোগ নষ্ট, ধীরগতির আক্রমণ আর ছন্দহীনতা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কার্টিস জোন্স। গোলটি আসে সালাহর বাড়ানো বল থেকে। এর মাধ্যমে লিভারপুলের হয়ে সর্বোচ্চ সহায়তাকারীর তালিকায় কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডকে ছাড়িয়ে যান সালাহ। পরে প্রতিপক্ষ সমতা ফেরালে আর কোনো দলই জয়ের গোল খুঁজে পায়নি।ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়েরা যখন দর্শকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখন কোচ আর্নে স্লট একা বসে ছিলেন বেঞ্চে। পুরো মৌসুমটি যে তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, সেটি তিনি আগেই স্বীকার করেছিলেন। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সমর্থকদের আস্থা ফিরিয়ে এনে নতুন এক লিভারপুল গড়ে তুলতে পারবেন কি নাগ্রীষ্মকালীন দলবদলে ক্লাবটিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। নতুন মৌসুমে লিভারপুলকে হয়তো দেখা যাবে এক ভিন্ন রূপে।তবে বিদায়ের মুহূর্তেও ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা আর গর্বের কথাই বলেছেন সালাহ।তিনি বলেন,“আমরা এই ক্লাবকে তার প্রকৃত জায়গায় ফিরিয়ে এনেছি। লিভারপুল ছাড়াটা কঠিন। পেছনে তাকালে মনে হয়, এর চেয়ে বেশি কিছু কি আমি চাইতে পারতাম? না, আমরা সব জিতেছি। সমর্থকদের ভালোবাসাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি আরও বলেন,“আমি অনেক দূরে চলে যাব, কিন্তু প্রতিবারই আবেগাপ্লুত হব। আশা করি দলটি সবসময় সেরাদের সঙ্গে লড়াই করে যাবে।”ম্যাচের শেষ দিকে দর্শকরা গেয়ে ওঠেন বিখ্যাত সেই গান—“সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরিবর্তনের এই গ্রীষ্ম শেষে লিভারপুলও নিশ্চয়ই সেই আশাতেই সামনে এগিয়ে যেতে চাইবে।
লিভারপুলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে অশ্রুসিক্ত বিদায় মোহাম্মদ সালাহ
আপডেট:

