রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত মরক্কো

আপডেট:

প্রথমার্ধে অপেক্ষাকৃত ভালো নৈপুণ্য দেখায় কানাডিয়ানরা। প্রেসিং ফুটবলের বিপরীতে মরক্কো অনেকটাই ছিল ছন্দহীন । জেসি মার্শের দল দীর্ঘ সময় ধরে মরক্কোর স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে রাখে, ফলে উত্তর আফ্রিকার দলটি তাড়াহুড়ো করে পাস দিতে বাধ্য হয় এবং পরিষ্কার গোলের সুযোগও খুব কম তৈরি করতে পারে। বলের দখল বেশি থাকলেও আক্রমণের শেষ ভাগে মরক্কোকে স্বাভাবিক ধারালো রূপে দেখা যায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির পরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে মরক্কো খেলার গতি বাড়ায় এবং কানাডার উঁচু ডিফেন্স লাইনের ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে শুরু করে। তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সমন্বয় আরও কার্যকর হয়ে ওঠে, আর মাঝমাঠ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রথম গোলটি পাওয়ার পর মরক্কো আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং একের পর এক আক্রমণে কানাডার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। মরক্কোর গতিময় ও সৃজনশীল আক্রমণের সামনে কানাডার রক্ষণ বারবার বিপাকে পড়ে। অন্যদিকে তাদের পাল্টা আক্রমণের সুযোগও ক্রমশ কমে আসে। এরপর আরও দুটি গোল করে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কানরা। প্রথামার্ধের পুরোটা মরক্কানরা ছিল অনেকটাই নিস্প্রভ। মনে হচ্ছিল, মরক্কোর খেলোয়াড়রা যেন এর আগে কখনো একসঙ্গে খেলেনি। যেন হঠাৎ করেই সবাইকে এক দলে নামিয়ে দেয়া হয়েছে, আর তারা নিজেরাই বুঝতে পারছে না কী করছে। খেলায় কোনো সমন্বয় বা বোঝাপড়া ছিল না। তবে এর পেছনে বড় কারণ হলো কানাডার কোচ জেসি মার্শ যেভাবে তার দলকে সাজিয়েছেন, তাতে মরক্কোকে কার্যকরভাবে খেলতে দেয়া হয়নি। পুরো ৪৫ মিনিটে গোলবারে একটিই শট নেয় মরক্কো। অন্যদিকে তিনটি শট নেয় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ সেরা দলটি। ৪১তম মিনিটে মরক্কোর আশরাফ হাকিমি এবং কানাডার ডিফেন্ডার রিচি লারিয়াকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।হিউস্টনে দশম মিনিটে বাঁ পা বাড়িয়ে অসাধারণ এক সেভ করে মরক্কোকে বাঁচান গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। সব মিলিয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই রক্ষণে ছিল বেশ সংগঠিত। আক্রমণে কিছু সম্ভাবনা তৈরি হলেও কোনো দলই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সেট পিস থেকে গোল পেয়ে যায় মরক্কো। ৫০তম মিনিটে ডান প্রান্তে আড়াআড়ি ফ্রিকিক বাড়িয়ে দেন আশারাফ হাকিমি। জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান আজ্জেদিন উনাহি। ৮২ মিনিটে আবারো গোল! মরক্কোর দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন তিনি। বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে জোড়া গোলের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করেন সালাদিন বশির। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায়ঢ মরক্কো।ম্যাচের যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে মরক্কোর হয়ে তৃতীয় গোলটি করলেন সুফিয়ান রহিমি। বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে কানাডার রক্ষণভাগের সব আশা শেষ করে দেন তিনি।এটি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, যেখানে কানাডা ও মরক্কো একে অপরের মুখোমুখি হলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আল থুমামা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাকিম জিয়েশ ও ইউসুফ এন-নেসিরির গোলে অ্যাটলাস লায়ন্স (মরক্কো) ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। এ নিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত মরক্কো। এর মধ্যে তাদের ২৬টিতেই জয়। তাদের সর্বশেষ হার ছিল আগস্ট মাসে। আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে কেনিয়ার কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল।আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কানাডা কোচ বলেছিলেন, ‘মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি যেন দুঃস্বপ্নে বসবাস করার মতো। তাদের খেলা দেখতেও আমার ইচ্ছা করে না। তারা ভীষণ শক্তিশালী।’তবে বড় স্বপ্নও ছিল তার। জেসি মার্শ বলেন, ‘আমরা এখানে থাকতে চেয়েছিলাম, আশা করেছিলাম এখানেই থাকবো। অনেকেই আমাদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখবে, কিন্তু এটাই আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আমরা জীবনের সেরা ম্যাচটি খেলতে চাই। সেটা যদি পারি তাহলে আমাদের জয়ের সুযোগ থাকবে।’গত বিশ্বকাপেও স্পেন ও পর্তুগালের মতো দলকে বিদায় করেছিল মরক্কোনরা। এবার শেষ বত্রিশ রাউন্ডে তারা হারায় নেদারল্যান্ডসকে।আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো রাউন্ডে পা রাখে কানাডা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত