রোম: ইতালির রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই দেশে পারমাণবিক শক্তি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বুধবার সিনেটে ‘প্রিমিয়ার টাইম’-এ বিরোধী দলগুলোর প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই সাহসী অবস্থানের কথা জানান।প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্মের মধ্যে প্রতিনিধিদল আইন (Delegation Law) এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো অনুমোদিত হবে। এর মাধ্যমে ইতালির জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। মেলোনি বলেন, দেশের কৌশলগত স্বার্থে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনি নিজে সেখানে প্রস্তাব দিতে আগ্রহী। তবে বিরোধী দলগুলোর অসহযোগিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন”যারা জাতীয় স্বার্থে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে চান, তাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। আমরা কোনো রাজনৈতিক ‘ক্যাটওয়াক’ করতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি।” সংসদে মেলোনির সাথে রেনজির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ইতালিয়া ভিভা নেতা মাত্তেও রেনজির সাথে প্রধানমন্ত্রীর বিতর্ক ছিল এই সেশনের অন্যতম আকর্ষণ। রেনজি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মেয়াদ ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে মেলোনি সপাটে জবাব দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল টিকে থাকা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা। মেলোনি তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেন মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি।ব্যবসায়িক খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উৎসাহিত করা।নিম্ন জন্মহার কারনে পরিবার ও জন্মহার বৃদ্ধিতে সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী বলেন আবাসন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা করে বলেন আবাসন সংকট নিয়ে রেনজির সমালোচনার জবাবে মেলোনি বলেন, সরকার এমন একটি আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যা কেবল দরিদ্রদের জন্য নয়, বরং মধ্যবিত্তদের জন্যও সহায়ক হবে যারা বাজারদরে বাড়ি কিনতে বা ভাড়া নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেনএসইজেড (SEZ) সম্প্রসারণ দক্ষিণ ইতালির জন্য নির্ধারিত একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘সরলীকরণ মডেল’ পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া।পেনশন তহবিলের ব্যবহার বর্তমানে ইতালীয়দের ২৬০ বিলিয়ন ইউরো পেনশন তহবিলের মধ্যে মাত্র ৪০ বিলিয়ন দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দেশের প্রকৃত অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।পিএনআরআর (PNRR) ও
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতালি এ পর্যন্ত ১৫৩ বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করেছে এবং শীঘ্রই নবম কিস্তি পাওয়া যাবে। ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ১১৭ বিলিয়ন ইউরোর ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যা সরকারের সফলতারই প্রতিফলন বলে তিনি দাবি করেন। রেনজির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কে সরকারে আসবে তা সময় বলবে, তবে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ না হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন জর্জিয়া মেলোনি।
তথ্যসুত্র : আনসা

