শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬

বাংলাদেশি কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার উদ্বেগজনক চিত্র

আপডেট:

ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় (Ministero del Lavoro e delle Politiche Sociali) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন (Rapporto Annuale) বিশ্লেষণ করে দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। ইনপ্স (INPS) ও কোয়েস্তুরার স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে আয়ের ঘাটতিজনিত জটিলতায় পড়ে বাংলাদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট বা লিগ্যাল ফাইলগুলো সবার আগে আটকে যাচ্ছে।১. ন্যূনতম ও গড় বেতন: আয়ের বড় ঘাটতি রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ইতালিতে সাধারণ অ-ইউরোপীয় (Non-EU) কর্মীদের গড় মাসিক বেতন যেখানে ১,২১১ ইউরো, সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় বেতন মাত্র ৯৫০ ইউরো। ইতালিতে আইনগতভাবে নির্দিষ্ট কোনো একক “সর্বনিম্ন জাতীয় বেতন” (Minimum Wage) নির্ধারিত নেই। বরং বিভিন্ন সেক্টরের জাতীয় যৌথ চুক্তি বা CCNL অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ঠিক হয়। বাংলাদেশিদের এই ৯৫০ ইউরো মূলত গড় আয়ের চিত্র, যা বাৎসরিক আয়ের ঘাটতির (Reddito Minimo) মূল কারণ।
​২. নারী কর্মসংস্থান ও নিষ্ক্রিয়তার উদ্বেগজনক হার
​ইতালিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নারী মাত্র ২৮.৩%। এর মধ্যে লেবার মার্কেটে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক—মাত্র ৬.৫%! অন্যদিকে কর্মহীনতা বা ইনঅ্যাক্টিভিটির হার ৯২.৩%। ফ্যামিলি ভিসায় আসার পর বিপুল সংখ্যক নারীর নামে কোনো কন্ট্রিবিউশন বা ট্যাক্স জমা না হওয়ায়, ফ্যামিলি পারমিট নবায়নের সময় আইএনপিএস (INPS) ও কোয়েস্তুরার স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিংয়ে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।​৩. নির্দিষ্ট সেক্টরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশি কর্মীদের একটি বড় অংশই মূলত দুটি খাতের ওপর নির্ভরশীল।২৯.৭% কর্মী হোটেল-রেস্তোরাঁ (Alberghi e ristoranti) সেক্টরে কর্মরত।
​২৯.৩% কর্মী বাণিজ্য বা ব্যবসা (Commercio) সেক্টরে কর্মরত।৪. ব্যক্তিগত ব্যবসা (Imprese Individuali)​ইতালিতে বাংলাদেশিদের নিজস্ব মালিকানাধীন প্রায় ৩০,৭০০টি ব্যক্তিগত ব্যবসা বা এন্টারপ্রাইজ রয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগই অর্থাৎ ৬৪.১% হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা।​৫. সামাজিক ভাতা বা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের ওপর নির্ভরতা।অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও আয়ের দিক থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় অংশ সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল। দেশের ১০,৪১৮টি বাংলাদেশি পরিবার সরকারের কাছ থেকে ‘রেদদিতো দি চিততাদিনাঞ্জা’ (RdC/PdC) বা সামাজিক আর্থিক ভাতা গ্রহণ করেছে।ইতালিতে যারা নতুন করে কর্মসংস্থানের জন্য আসছেন বা ইতিমধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই পরিসংখ্যানটি একটি বড় সতর্কবার্তা। এটি প্রমাণ করে যে কোয়েস্তুরার বর্তমান কড়াকড়ি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়।শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম বেতনের চাকরি: ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ (৬৩.৭%) সর্বোচ্চ লোয়ার সেকেন্ডারি (Lower Secondary) পাস। ফলে তারা মূলত কম বেতনের বা পার্ট-টাইম চুক্তিভিত্তিক কাজে যুক্ত হন।
​ডিজিটাল স্ক্রিনিং: রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা সেক্টরে অনেক সময় ট্যাক্স ফাইল বা কুদ (CUD) ফাইলে সঠিক হিসাব না দেখানো বা কন্ট্রিবিউশন কম দেওয়ার যে প্রবণতা থাকে, তা এখন ইতালীয় প্রশাসনের আধুনিক ডিজিটাল স্ক্রিনিংয়ে (Digital Screening) সহজেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ প্রবাসীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত