সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

মেসে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা

আপডেট:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি ছাত্রাবাসে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।গত শনিবার রাতে নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চারতলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।তার মাথার চুলও কেটে দেয়া হয়েছিল, যার প্রমাণ ঘটনাস্থলেই মিলেছে। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ওই এলাকার মসজিদ গলির মেসে ভাড়া থাকতেন। এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত