রুহুল আমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এবারও সরিষার ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ সরিষা চাষিরা। সরিষা বিক্রি করে বিগত ২ বছর লাভের মুখ দেখলেও এবারে বাজার দর কম থাকায় লাভ হবে কি না এই আশঙ্কা চাষিদের।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দাম কম হলেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে না, হয়তো বিগত বছরগুলোর চেয়ে লাভ কম হবে। বিগত দুই বছর সরিষার ভালো দাম পায় কৃষকরা। যে কারণে সরিষা চাষে বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা আবাদ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরিষা চাষিদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। তবে সরিষার দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় আবাদে খরচ বেড়েছে। যে কারণে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা, লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছি আমরা।
কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আমন ধান কাটার পরে সরিষার আবাদ শুরু হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সরিষার বীজ জমিতে বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সরিষা কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলা হয়। এরইমধ্যে বেশিরভাগ সরিষাই মাঠ থেকে কেটে মাড়াইয়ের জন্য বাড়ির আঙিনায় রোদে শুকানো হচ্ছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সরিষা আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ সরিষা প্রকারভেদে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতি মণ বিক্রয় হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এরও আগের বছর বিক্রয় হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। সরিষার দাম এবারে গত দুই বছরের চেয়ে অনেকটা নিম্নমুখী।
সরেজমিন উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সরিষা চাষিই মাঠ থেকে সরিষা কেটে এনে মাড়াই করে এখন শুকাতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। কেউ কেউ স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দাম গত দুই বছরের চেয়ে কম হওয়ায় তারা হতাশ। তাদের মুখে নেই হাসি। দিগদাইড় গ্রামের সরিষা চাষি সুলতান মুহাম্মাদ নাসির উদ্দিন বলেন, এবার ১৩ কাটা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। জমির খাজনা এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সরিষা আবাদে খরচ বেড়েছে অনেক বেশি। কিন্তু গত বছরের লাভের অংক হিসেব করলে এবারে লাভ হবে কি না, সেই শঙ্কায় আছি। স্থানীয় বাজারে সরিষার দাম বিগত দুই বছরের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় লোকসান হতে পারে। তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মেজবাহ উদ্দিন জানান, সরিষা লাভজনক ফসল। আমন ধানকাটার পর ধানের জমিতে সরিষা আবাদ করলে প্রতি বিঘায় ৪-৫ মন সরিষা হয়। একবিঘা জমিতে সরিষা আবাদে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজার দাম কম হলেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে না, হয়তো বিগত বছরের চেয়ে লাভ কম হবে।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন কুমার সাহা জানান, তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আমরা সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের যথারীতি উৎসাহ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছি। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় এবার সরিষার আবাদে কোনো প্রকার রোগ-বালাই আক্রমণ করেনি। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। অপেক্ষা করে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন।



