রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

প্রাচীন ছায়াপথ বিলিয়ন বছর আগের মহাজাগতিক একীভূতকরণের প্রমাণ

আপডেট:

​প্রতিবেদন: বেনেডেটা বিয়াঙ্কো
তারিখ: ১৬ই মে, ২০২৬
​আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ আকাশগঙ্গা (Milky Way) কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। প্রায় ১০ বিলিয়ন (১,০০০ কোটি) বছর আগে আকাশগঙ্গা দ্বারা গ্রাস হওয়া ‘লোকি’ (Loki) নামের একটি প্রাচীন বামন ছায়াপথের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। অত্যন্ত প্রাচীন এবং ধাতু-স্বল্প ২০টি নক্ষত্রের একটি দল পর্যবেক্ষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।প্রাচীন নক্ষত্রের সন্ধান: গবেষকরা ২০টি অত্যন্ত পুরোনো এবং “ধাতু-স্বল্প” (metal-poor) নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন।
​অস্বাভাবিক অবস্থান: সাধারণত এই ধরনের প্রাচীন নক্ষত্র ছায়াপথের বাইরের দিকে থাকে। কিন্তু এই নক্ষত্রগুলো আমাদের সূর্যসহ অধিকাংশ নক্ষত্রের আবাসস্থল—আকাশগঙ্গার মূল চাকতির (Galactic disk) অস্বাভাবিক রকমের কাছাকাছি অবস্থান করে প্রদক্ষিণ করছে।মহাজাগতিক ঘটনা আজ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে, যখন আকাশগঙ্গা আজকের মতো স্থিতিশীল ঘূর্ণায়মান চাকতির আকার ধারণ করেনি, তখন এটি ‘লোকি’ নামক বামন ছায়াপথটিকে নিজের ভেতরে গ্রাস (একীভূত) করে নেয়। যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি
​যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতালীয় গবেষক ফেদেরিকো সেস্তিতো-এর নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল ‘মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।এই গবেষণায় ইতালির বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করেছে:
১. তুরিনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স২. বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়
৩. ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষকরা প্রথমে ধাতু-স্বল্প নক্ষত্রের একটি বিদ্যমান ক্যাটালগ থেকে এই ২০টি নক্ষত্রকে বেছে নেন। এরপর হাওয়াইয়ের মাউনা কেয়া আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবস্থিত কানাডা-ফ্রান্স-হাওয়াই টেলিস্কোপ দিয়ে নক্ষত্রগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়।দূরত্ব ও কক্ষপথ নির্ণয়: ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) গাইয়া স্পেস টেলিস্কোপ (Gaia)-এর তথ্য ব্যবহার করে নক্ষত্রগুলোর সঠিক দূরত্ব এবং মহাকাশে তাদের চলাচলের কক্ষপথ গণনা করা হয়।
​রহস্য এবং কম্পিউটার সিমুলেশনের সমাধান
​নক্ষত্রগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করেন। রাসায়নিকভাবে অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও, এই নক্ষত্রগুলোর গতিপথ এক ছিল না:কিছু নক্ষত্র আকাশগঙ্গার ঘূর্ণনের দিকেই এগোচ্ছে।বাকি নক্ষত্রগুলো সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ভ্রমণ করছে।একই ছায়াপথের নক্ষত্রগুলোর এই বিপরীতমুখী আচরণের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে। সিমুলেশন দেখায় যে, ১০ বিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে যখন নবীন আকাশগঙ্গা একটি সুস্থিত চাকতির আকার পায়নি, তখন লোকির মতো কোনো বামন ছায়াপথকে গ্রাস করার ফলেই নক্ষত্রগুলো ঠিক এই অস্বাভাবিক বিন্যাসেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।এই আবিষ্কারটি আমাদের ছায়াপথের আদিম ইতিহাস এবং এর গঠন প্রক্রিয়া বুঝতে বিজ্ঞানীদের আরও একধাপ এগিয়ে দিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত