তুরিন /ইতালি : রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ইতালির পিডমন্টে সিজিআইএল (CGIL)-এর আঞ্চলিক প্রতিবাদ অংশ নিয়েছে। ইতালির পিডমন্ট (Piedmont) অঞ্চল জুড়ে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের দাবিতে “অধিকারগুলো লাইনে দাঁড়ায় না” (Rights do not queue) শিরোনামে একটি আঞ্চলিক প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিআইএল (CGIL)। মূলত রেসিডেন্স পারমিট (permesso di soggiorno) নবায়নের ক্ষেত্রে নন-ইইউ অভিবাসীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নাগরিক ভোগান্তির প্রতিবাদেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।সংকটের মুখে লাখো অভিবাসী কর্ম সময় ও মানসিক চাপ কর্মক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। পিডমন্ট অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যা এই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। ইউনিয়নটির তথ্যমতে, এই প্রদেশে প্রতি বছর দেড় লাখেরও বেশি নন-ইইউ অভিবাসী তাদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের জন্য চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পিডমন্টের প্রধান শহর তুরিন (Turin), আলেসান্দ্রিয়া (Alessandria) এবং কুনিও (Cuneo) প্রদেশে একটি পারমিটের ফাইল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বর্তমানে গড়ে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।রশিদের (Ricevuta) সীমাবদ্ধতা ও ভোগান্তি চরম আকার নিয়েছে। পারমিট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের একমাত্র ভরসা “রশিদ” বা রিচেভুতা (ricevuta)। কিন্তু এই রশিদ দিয়ে ব্যাংকিং লেনদেন, স্বাস্থ্যসেবা (Health Services) নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে নিজ দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের প্রতিনিয়ত গুরুতর আইনি ও নাগরিক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসনের নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শুধু বেড়ে চলছে। সিজিআইএল (CGIL) অভিযোগ করেছে যে, এই দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারি কর্মীর অভাব। তবে সংকট সমাধানের চেয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এখানে স্পষ্ট।”ফাইলজট কমানোর জন্য যেখানে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বা কুয়েস্তুরায় (Questura) নতুন কর্মী নিয়োগ করা জরুরি, সেখানে তা না করে শূন্য বা অব্যবহৃত অভিবাসন কেন্দ্রগুলোর পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরো অপচয় করা হচ্ছে।”এই প্রচারণার মাধ্যমে CGIL পিডমন্ট প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে ইমিগ্রেশন বিভাগে জনবল বৃদ্ধি, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করা এবং নবায়ন প্রক্রিয়ারত অভিবাসীদের পূর্ণ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।

