আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল জোট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইউরোপকে এক নতুন ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান মারিও দ্রাঘি। সম্প্রতি সম্মানজনক ‘শার্লেমাইন পুরস্কার’ বিতরণী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে এক কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।দ্রাঘি তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ইউরোপকে এক নজিরবিহীন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন”আমাদের জীবদ্দশায় এই প্রথমবার, আমরা একসাথে সত্যিই একা। ইউরোপ এই নতুন বাস্তবতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাটি এই মাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়নি।”১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠনের পর থেকে ইউরোপ তাদের নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু দ্রাঘি মনে করেন, সেই নির্ভরতার দিন ফুরিয়ে আসছে। তার মতে যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ এবং অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে।মার্কিন নিরাপত্তা যে একসময় ‘নিশ্চিত’ বলে ধরে নেওয়া হতো, তা এখন হুমকির মুখে।বিকল্প হিসেবে চীনের কাছ থেকেও কোনো ইতিবাচক পথ দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ দীর্ঘকাল ধরে আলোচনা ও আপোসের মাধ্যমে বৈশ্বিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছে। তবে দ্রাঘি এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপের এই ‘নরম অবস্থান’ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উল্টো আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তার মতে, অংশীদারিত্বে ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে ইউরোপকে এখন অনেক বেশি জোরালো এবং শক্ত অবস্থানে ফিরতে হবে ’
দ্রাঘি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারাই ইউরোপের অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা। তিনি বলেন, আমেরিকার এই পরিবর্তিত মনোভাবকে কেবল ‘হুমকি’ হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং একে ইউরোপের জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয় জাগরণ’ (Wake-up call) হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
মারিও দ্রাঘির এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ইউরোপকে এখন তার পুরনো কৌশল ঝেড়ে ফেলে সামরিক ও কৌশলগতভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে হবে। অন্যথায়, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপ তার গুরুত্ব হারাতে পারে।
তথ্য সুত্র : আনসা

