রবিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

পরকীয়া ও অন্যের হস্তক্ষেপ বিবাহ বিচ্ছেদ মহামারি আকার ধারন

আপডেট:

বাংলাদেশ প্রতিটি জেলা উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদ মহামারী আকার ধারন করছে। এর জন্য কয়েকটি কারন করেছে সমাজ বিজ্ঞানীরা তারা মনে করে মেয়েরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক এগিয়েছে,তাই তারা এখন তারা আরো স্বাধীন ভাবে জীবন চালাতে চায়, অনেকে আবার কাবিনের টাকার লোভে বিবাহ বিচ্ছেদ করে লাভবান হতে চায়। অন্যতম কারন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো ফলশ্রুতিতে বিচ্ছেদ। সামাজিক অবক্ষয় কারনে প্রতিদিন এই সংখ্যা আাড়ছে। শুরুর আগেই এখন ভাঙছে সংসার। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই বহু সংসার ভেঙে যাচ্ছে। চারদিকে যেন মহামারির মতো সংসার ভাঙার হিড়িক পড়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় গত তিন বছরে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ৪৭ হাজার ৫৭৪টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এই থেকে অনুমান করা যায় বাংলাদেশর প্রতিটি জেলা ও উপজেলার বিবাহ বিচ্ছেদের হার কেমন? ২০২৩ থেকে শুরু করে ২০২৫ এই তিন বছরে প্রতি বছরই বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে বিচ্ছেদের হার দক্ষিণের চেয়ে বেশি। আর নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ করছেন। সাধারণত যারা নতুন বিয়ে করছেন এবং বিয়ের বয়স বছর খানেক থেকে শুরু করে পাঁচ বছরের কম তারাই বেশি বিচ্ছেদের আবেদন করছেন।জানা যায়, বিচ্ছেদের আবেদন করার তিন মাসের মধ্যে সালিশের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঠেকানোর সুযোগ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী-স্ত্রীর দুই পক্ষের কেউই সিটি করপোরেশনের সেই সালিশি বৈঠকে আসেন না। এরপর স্বংক্রিয়ভাবে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২৩ সালে ৭ হাজার ৫৯৯টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৬৯টি। চলতি বছর ডিসেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত মোট বিচ্ছেদ হয় ৮ হাজার ৪০৭টি।সব মিলে গত তিন বছরে ঢাকা উত্তরে মোট বিচ্ছেদ হয় ২৪ হাজার ১৭৫টি।আগে অত্যাচার সহ্য করে সংসার করলেও এখন আর তা হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি যে, বিয়ের মোটা অঙ্কের দেনমোহরের টাকা উসুল করার জন্য অনেক নারী তালাক নিয়ে নেন। বেশ কয়েকটি বিচ্ছেদের সালিশ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দেখেছি যে, স্বামী অন্য নারীকে পছন্দ করেছে এখন আর সংসার করতে চান না। কিছু ক্ষেত্রে নারীদের স্বামী তার মায়ের কথা অনুযায়ী চলে এতে সংসারে অশান্তি থেকে তারা বিচ্ছেদে যান।দুই পরিবারের শ্বশুর-শাশুড়ির নেতিবাচক ভূমিকাও এখানে কাজ করে। সংসার করার জন্য নারী-পুরুষের মধ্যে যে প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন তা নেই। আর এ বিষয়ে পারিবারিকভাবে প্রশিক্ষণও নেই।

নারীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এখন স্বাধীনভাবে থাকতে চায়। এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, পরকীয়ার সম্পর্ক বিচ্ছেদে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খাইরুল চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের সঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার সম্পর্ক আছে। দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকায়। এ কারণে এখানে বিচ্ছেদের হারও বেশি। সাধারণত কম বয়সি দম্পতিদের মধ্যেই বিচ্ছেদ বেশি হয়। সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনে ছেলে-মেয়েরা এখন পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজেরাই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে মেয়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার হার বেড়েছে। এখন বিয়েতে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যাশার জায়গায় পরিবর্তন ঘটেছে। আর এটি কাক্সিক্ষত না হলে বিচ্ছেদও দ্রুত ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত