মালে, ১৪ মে ২০২৬ / মালদ্বীপের নীল জলরাশির গভীরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাঁচ ইতালীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি চারজন পানির নিচে একটি গুহার ভেতর আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মালদ্বীপের ইতিহাসে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ডাইভিং বিপর্যয়।দুর্ঘটনার শিকার ৫ জন পরিচয়, নিহতরা মূলত একটি বৈজ্ঞানিক সমুদ্রযাত্রার অংশ হিসেবে সমুদ্রতলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন:ড. মনিকা মন্টেফালকোন (৫১) জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যার প্রখ্যাত অধ্যাপক ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ।জর্জিয়া সোমাকাল (২৩): অধ্যাপক মন্টেফালকোনের কন্যা।মুরিয়েল ওডেনিনো তুরিনের একজন গবেষক।জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি ও ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি: দুজনই অত্যন্ত দক্ষ ডাইভিং প্রশিক্ষক।’ডিউক অফ ইয়র্ক’ নামক একটি সাফারি বোট থেকে দলটি ভাভু অ্যাটলের পানির নিচে ডাইভিং শুরু করে। আলিমাথা ডাইভিং পয়েন্টের কাছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার গভীরে একটি বিশাল গুহায় প্রবেশের পর তাঁরা আর ফিরে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ২৬০ মিটার দীর্ঘ ওই গুহাটিই তাঁদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সীমা ৩০ মিটার পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, এটি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অভিযান হওয়ায় তাঁরা গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও উদ্ধার অভিযান
ভারত মহাসাগরে বিরাজমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে আগে থেকেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনে দলটি ডাইভিং চালিয়ে যায়। বর্তমানে মালদ্বীপ জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (MNDF) ডুবুরিরা উচ্চ-ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
”প্রবল স্রোত এবং অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। মৃতদেহগুলো গুহার এমন গভীরে অবস্থিত যেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য,” বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।বিশেষজ্ঞরা এই দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কারণ অনুমান করছেন:
১. অক্সিজেন বিভ্রাট: ডাইভিং ট্যাঙ্কে থাকা গ্যাসের মিশ্রণে কোনো ত্রুটি।
২. দিকভ্রান্ত হওয়া: বিশাল ও গোলকধাঁধার মতো গুহার ভেতরে পথ হারিয়ে ফেলা।
৩. আকস্মিক স্রোত: পানির নিচে আকস্মিক উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ বা শক্তিশালী স্রোত যা তাঁদের উপরে উঠে আসতে বাধা দিয়েছে।ইতালির
শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় রোম ও ইতালির সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলবাট্রোস টপ বোট এজেন্সির সাথে যুক্ত থাকা এই বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সঠিক কারণ জানতে বাকি মরদেহগুলো উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছে মালদ্বীপ ও ইতালি সরকার।
তথ্য সুত্র / ফটো : আনসা
মালদ্বীপে ইতিহাসের ভয়াবহতম ডাইভিং দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন ৫ ইতালীয় বিশেষজ্ঞ
আপডেট:

