নতুন এক রূপরেখার আওতায় হামাস নিজ বাহিনী নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে। একই রূপরেখায় গাজা উপত্যকা থেকে সরে যেতে হবে ইসরায়েলি বাহিনীকে। গাজার বোর্ড অব পিস এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে হামাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ আলজাজিরাকে জানান, তাদের পক্ষ থেকে রূপরেখা মেনে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের ওপর। হামাস গাজার জনসাধারণের কথা চিন্তা করে ওই রূপরেখায় রাজি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এদিকে এসবের মধ্যেও উত্তর গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে আহত হয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। অথচ ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটির ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠিত বোর্ড অব পিস হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে এসেছে। নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হয়ে গেলে ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলেও রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়বে না বলেই জানিয়েছেন গাজী হামাদ। তিনি বলেন, তাদের দল ফিলিস্তিনের জাতীয় পটভূমির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তিটি বেশ কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হয়েছে।হামাসের এ কর্মকর্তা জানান, তাদের দল ফিলিস্তিনি জনসাধারণের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য করণীয় ও জাতীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও জানান, এই চুক্তি বিস্তৃত প্যাকেজের অংশ। নিরস্ত্রীকরণ এটির একটি অংশ মাত্র। এর মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধের বিষয়টি রয়েছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত রয়েছে এবং জাতীয় বাহিনী ও আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন এবং উপত্যকার পুনর্গঠন শুরুর বিষয়গুলো উল্লিখিত রয়েছে।কর্মকর্তা আরও জানান, হামাস জাতীয় কমিটির অধীন ও তত্ত্বাবধানে নিজ অস্ত্র সংরক্ষণ করার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। তবে এই বিষয়টিও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে।চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীগাজায় যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করাই তাদের লক্ষ্য। ওই লক্ষ্য অর্জনে পরবর্তী মাসগুলোতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে পুরো উপত্যকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে তারা। প্রাণ হারায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৪১ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক। এখনও অনেকের মরদেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পুরো উপত্যকার জনসাধারণ। ইসরায়েলের এ আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।ইসরায়েলে চলতি বছর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল ইয়াশার পার্টি। ওই দলের নেতা গাদি এইজেনকত এখন প্রশ্ন তুলছেন ইসরায়েল এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করল, তা নিয়ে। তাঁকে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে।

